বাংলাদেশ সেনার সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের সম্পর্ক এখন নিম পাতার থেকেও তিক্ত। ইতিমধ্যে আমরা জেনে গিয়েছি, বুধবার থেকে বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সভায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে ঠিক হয় বাহিনীর ওই সংখ্যক সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সরকারের তরফে এই নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে তাদের বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের পর আবার মাঠে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যি কী তাদের বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে? তদারকি সরকার মুখে যাই বলুক না কেন, এর কারণ একেবারেই ভিন্ন।
আমরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছি, যে তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস তাঁর রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে বাহিনীর তরফ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এই বৈঠকের আগে বাহিনীর তিন প্রধান একান্তে বৈঠক করেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে।
আসলে বাহিনীও এবার ইউনূসের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। তারাও চাইছে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক। সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সূত্রের খবর, ইউনূসকে বাহিনীর তরফ থেকে চাপে রাখতে পালটা চাপ আসছে আন্তর্জাতিকমহল থেকে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাহিনীও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। বুধবার সেনা সদরে এক সাংবাদিক সম্মেলেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কম্যান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি, আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘সরকার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা দিয়েছে। নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। ’
নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সে রূপরেখার মধ্যে সময়সীমাও দেওয়া আছে। আমরা আশা করি নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।’
আসলে সেনাবাহিনী ইউনূস সরকারের অপশাসনের ভাগীদার হতে চাইছে না। তারা চাইছে দেশের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব তদারকি সরকার পালন করুক। কিন্তু যে সরকারের পুলিশ সামান্য এক মিছিল সামাল দিতে পারে না, সেই সরকারের পক্ষে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যে একেবারেই সম্ভব নয়, তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। উদ্বেগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। খুলনায় তৈরি হয়েছে হুমা বাহিনী, পদ্মার চড়ে কাকন বাহিনী। তৈরি হয়েছে ফারুক এবং তোতলা বাহিনী। বাংলাদেশে তদারকি সরকারের উপদেষ্টাদের হাতে হাতে পৌঁছে গিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। গত তিন মাসে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
দেশের বর্তমান অবস্থা যে ভয়াবহ, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। নানা প্রান্তে ঘটে চলেছে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা। এই অবস্থায় তদারকি সরকার বাংলাদেশের প্রায় নয় হাজার তরুণ-তরুণীকে আত্মরক্ষার নানা কলা কৌশল এবং আগ্মেয়াস্ত্র বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post