বছর ঘুরলে বাংলাদেশে নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের ঘোষণ সে কথাই বলছে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে। বুধবার ৫ নভেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পর থেকে বাহিনীর হাতে ছিল দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান গত ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন, তিনি দেশবাসী তথা দেশের জান-মালের দায়িত্ব নিচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে বলতে শোনা যায় দেশে একটি ক্রান্তিকাল চলছে। একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। সব হত্যার বিচার হবে। সেই সঙ্গে তিনি বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। কিন্তু হঠাৎ কী এমন হল, যার জন্য বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এখানে দুটি বিষয়ের উল্লেখ করা দরকার। যদিও দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে পর থেকে তদারকি সরকারের তরফে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে। গত দেড় বছর ধরে বাহিনী সেই কাজ করে এসেছে। কিন্তু তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া হয়নি। না দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে, না দেশবাসীর তরফ। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের ভাবমূর্তিকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাহিনী মনে করছে, তাদের স্যর নায়ক থেকে খলনায়কে পর্যবসিত হয়েছেন। বাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। এটা বাহিনীর আত্মসম্মানে ঘা দিয়েছে। ৫০ শতাংশ সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী এই বার্তা দিতে চাইছে যে তারা না থাকলে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, সেটা এবার দেশবাসীর দেখা দরকার।
বুধবার সেনা সদরে এক সাংবাদিক সম্মেলেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কম্যান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি, আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘সরকার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা দিয়েছে। নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। ’ সাংবাদিক সম্মেলন শেষে সেনানিবাসে ফিরে যাওয়ার আশা জানিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রহমান বলেন, যে পরিস্থিতর মধ্য দিয়ে আমরা গত ১৫ মাস দায়িত্ব পালন করেছি, তা একেবারেই সহজ ছিল না। আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এবং আমরা সেনানিবাসে ফিরে যাই। নির্বাচন নিয়েও সাংবাদিকদের তোলা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি বলেন,‘নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সে রূপরেখার মধ্যে সময়সীমাও দেওয়া আছে। আমরা আশা করি নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।’
কিন্তু বুধবারের তার ওই সাংবাদিক সম্মেলনের পর থেকে বাংলাদেশে নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘর্ষ। বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় বহু নেতার নাম বাদ গিয়েছে। নেতাকে টিকিট দেওয়ার দাবিতে তার সমর্থকেরা এবার রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন স্থানে হয়েছে রেল অবরোধ। হয়েছে ভাঙচুর। নড়াইল-মাগুরা সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৮ জন। একই দিনে চট্টগ্রামে দলের জনসংযোগ প্রচার কর্মসূচিতে কে বা কারা গুলি চালায়। গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়। এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, বাংলাদেশে ঝড়বে রক্ত।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post