হীরক রাজার দেশে ছবির এই সংলাপ মনে পড়ে – ‘অনাচার করো যদি, রাজা তবে ছাড়ো গদি; যারা তার ধামাধারী, তাদেরও বিপদ ভারী। করিবে শোষণ পাপ, ক্ষমা চেয়ে নাহি মাফ, নাহি কোনো পরিত্রাণ, হীরকের রাজা শয়তান।’
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বাতাসে বইতে শুরু করেছে এই স্লোগান। গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সে দেশে ঘটেছে ক্ষমতার পালাবদল। দেশ শাসনের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মহম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশবাসী আশা করেছিল, হাসিনা সরকারের আমলে তাদের যে সব আশা-আকাঙ্খা পূরণ হয়নি, এই সরকার তাদের সেই আশা পূরণ করবে। বাংলাদেশে কার্য়কর হবে আইনের শাসন। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘রুল অব ল’।
আর গত এক বছরে বাংলাদেশবাসী কী দেখল? দেখল দেশ কার্যত রসাতলে চলে গিয়েছে। ডুবেছে দেশের অর্থনীতি। রুল অব ল্য-য়ের পরিবর্তে দেশে কার্যকর হয়েছে রুল অব আন ল্য। সরকার বিরোধী কোনও কথা বললেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে চলছে দমনপীড়ন। তদারকি সরকার মেতে উঠেছে প্রতিশোধস্পৃহায়। বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হচ্ছে। হাসিনা আমলে যে বাংলাদেশ ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সেই বাংলাদেশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্বেষের বিষ, ঘৃণা। আপামর বাংলাদেশবাসী এই বাংলাদেশ দেখতে চায়নি। তারা চাইছে সেই সোনার বাংলাকে ফিরে পেতে যে সোনার বাংলায় মায়ের মুখের বাণী কানে লাগে সুধার মত / মায়ের বদন খানী মলিন হলে তারা নয়ন জলে ভাসে। তারা ফিরে পেতে চাইছে সেই সোনার বাংলাকে যে সোনার বাংলায় ফাগুনে পাওয়া যায় আমের বনে পাগল করে দেওয়া ঘ্রানের গন্ধ। তাই দেশবাসী আগামী ১৬ ডিসেম্বর গণভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ১৯৭১ সালে এই দিনে জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের। বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের এই সম্ভাব্য কর্মসূচির কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদারকি সরকার প্রধান ড. ইউনূস মুখে নির্বাচনের কথা বললেও আসলে তিনি মনে প্রাণে চাইছেন যেভাবে হোক নির্বাচন যেন ভেস্তে যায়। নির্বাচন পিছিয়ে গেলে বা বানচাল হয়ে গেলে তিনি আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে যেতে পারবেন। বিগত ষোলো মাসে তিনি যে সব কাজ সম্পন্ন করে উঠতে পারেননি, এই সময়ের মধ্যে তিনি সেই সব বাকি থেকে যাওয়া কাজ শেষ করে নেবেন। মানে নিজের আখের গোছাতে আর যা যা করা দরকার তিনি সেই কাজগুলি শেষ করে ফেলবেন।
বাংলাদেশে ভোট বানচাল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে দেশের বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তি। সেটা হলে তারা আরও কিছুদিন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পারবে। গুছিয়ে নিতে পারবে আরও অনেককিছু। কিন্তু বাংলাদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বুঝে গিয়েছে ইউনূসকে আর কোনওভাবেই ক্ষমতায় রাখা উচিত হবে না। যদি স্বেচ্ছায় গদি না ছাড়ে তাহলে সেই হীরক রাজার মতো তাঁরও গদি ধরে টান মারতে হবে। বাংলাদেশবাসী ঐকান্তির ইচ্ছার কথা বুঝে গিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাই, তারা আগামী ১৬ ডিসেম্বর গণভবন ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে। ভারতের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সাক্ষী হতে চলেছে আরও এক পট পরিবর্তনের। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীলীগ পরবর্তী এক মাসের জন্য তাদের কর্মসূচির নকশা তৈরি করে ফেলেছে। সেই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মিছিল। এই মিছিল কোনও প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের নয়, এই মিছিল সংঘবদ্ধ হওয়ার মিছিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post