প্রতিবেদনের বিষয় মনে করায় ফ্রান্সের রানী মারি অ্যান্টোনেটের জলদ গম্ভীর গলায় সেই উক্তি – রুটি খেতে না পারলে কেক কিনে খাও।
আমেরিকার মানুষের কেক কেন, রুটি কেনার মতো রেস্ত নেই। অর্থে, ক্ষমতায় বলশালী দেশটি আজ এক ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি। মার্কিন মুলুকে শুরু হয়েছে শাটডাউন। বৃহস্পতিবার শাটডাউনের ৩৬ তম দিন। শাট ডাউনের জেরে বেশ কয়েকটি দফতর আংশিকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। ১৩ শো বিমানকর্মী এবং ৫০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী এক মাসের বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে কাজ করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।
বুধবার সে দেশের পরিবহন সচিব তথা আমেরিকার বেসামরিক বিমান সংস্থার শীর্ষকর্তা শন ডাফি জানিয়েছে, পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন না হলে আমেরিকার বেশ কয়েকটি আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হবে। কয়েকটি আকাশসীমাকে পুরোপুরি বন্ধ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। কর্মী ঘাটতির জন্য বিমান পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে আমেরিকায় ১০ হাজারের বেশি উড়ান দেরিতে ওঠা নামা করছে। চলতি সপ্তাহেও প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি উড়ান দেরিতে ওঠা নামা করছে। বেতন না মেলায় বহু কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। মার্কিন শাট ডাউনের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। বৃহস্পতিবার কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার এক গ্রামের দাম ছিল ১২, ১৯১। ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লক্ষ ২২ হাজার টাকা। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ছে। ভারতের বাজারে যে সব বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী ছিল, তারা আসতে আসতে সরতে শুরু করেছে।
আমেরিকা এর আগেও শাট ডাউনের সাক্ষী ছিল। ১৯৯৫-৯৬ সালে আমেরিকা প্রথমবার শাটডাউনের সাক্ষী ছিল। সে দফায় শাট ডাউন চলে২১ দিন। দ্বিতীয়বার ২০১৩ সালে। আমেরিকার মসনদে তখন আসীন ছিলেন বারাক হুসেন ওবামা। শাটডাউন চলে ১৬দিন। ১৬ দিনের শাটডাউনে ধাক্কা লাগে মার্কিন কোষাগারে। রাজকোষ থেকে বেরিয়ে যায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। ফের আরও একবার শাটডাউনের মুখে পড়ে আমেরিকা। ইতিমধ্যে সে দেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ব্যাটন ওবামার হাত থেকে গিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। তাঁর প্রথম শাসনামলেই আমেরিকা তথা গোটা বিশ্ব সেই প্রথম দেখেছিল ভয়াবহ শাট ডাউন। টানা ৩৫ দিন স্তব্ধ ছিল আমেরিকা।
শাটডাউন-য়ের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় অচলাবস্থা। কিন্তু কী কারণে আমেরিকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হল। বিবাদ বেঁধেছে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। মঙ্গলবার একটি সেনেট প্রশাসনের তহবিল সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে তৈরি হয় বিরোধ। ডেমোক্র্যাটদের দাবি ছিল জো বাইডেনের আমলে থাকা ওবামা কেয়ারের ট্যাক্স ক্রেডিট ওই বিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রিপাবলিকানরা তাতে প্রবল আপত্তি জানায়। দুইয়ের মতপার্থক্যের জেরে শেষ পর্যন্ত ওই বিল পাশ হতে পারেনি। সরকারকে শাট ডাউনের পথে হাঁটতে হয়েছে।
এই শাটডাউন কবে উঠবে তা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছে না। এর প্রভাব শুধু মার্কিন অর্থনীতিতেই পড়েনি, পড়েছে বিশ্ব বাজারে। প্রভাব এড়াতে পারবে না ভারতও। এ দেশের বস্ত্রবয়ন, ওষুধ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন শুল্ক দফতরের কর্মীরা কাজ করছেন অত্যন্ত ধীর গতিতে। ফলে, ভারত থেকে সে দেশে রফতানি হওয়া পণ্য নামাতে অনেক সময় লাগবে।
যদিও শাটডাউন দীর্ঘমেয়াদি হয় এবং সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা গণহারে কর্মী ছাটাই শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বহু ভারতীয় কাজ হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post