গত মঙ্গলবার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট। বিস্ফোরণ হয় পাক সুপ্রিম কোর্টের ৬ নম্ব এজলাসে। ঘটনায় জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ৬ নম্বর এজলাসে বিচারপতি আলি বাকার নাজাফি এবং বিচারপতি শাহজাদ মালিকের এজলাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছিল। এজলাস ছিল ভিড়ে ঠাসা। আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে এজলাসের একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য শুরু হয় হুড়োহুড়ি। সুপ্রিম কোর্টে চত্বরে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়।
একটিগণমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তান সরকার চেষ্টা চালিয়েছিল এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার। তাঁর কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে সে দেশের বুকে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যে ঘটনার জন্য ইসলামাবাদ দিল্লিকে দায়ী করেছে। যেমন বলা হচ্ছে বালুচিস্তানে ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’-কে ভারত অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। সিন্ধু প্রদেশ উত্তাল হওয়ার পিছনে তারা ভারতকেই দায়ী করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় তারা ভারতকে কীভাবে কাঠগড়ায় তোলা যায়, তার জন্য ছুতো খুঁজছিল। কিন্তু কোনও অস্ত্র খুঁজে পায়নি। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে পাকিস্তান সেনা। সুতরাং, তারা কিছুতেই এই দায় এড়াতে পারে না। অনুমান, পাকিস্তান সেনাই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির আগামীদিনে আরও বেশি ক্ষমতা পেতে চলেছেন। তার হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। এই সংশোধন হবে ২৭ তম। সংশোধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ২৪৩ ধারাকে। সূত্রের খবর, সরকারকে সংবিধান সংশোধনের জন্য সেনার তরফ থেকে লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছে। সংশোধন পাক জাতীয় সংসদে পেশ হলে পাকিস্তান পিপলস পার্টি সহ অন্য বিরোধীদল যাতে সমর্থন করে, তার জন্য সরকারের তরফ থেকে সব রাজনৈতিক দলের কাছে সমর্থন চাওয়া হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বিলাওল ভুট্টো তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন, বিলে সংশোধনী সংক্রান্ত প্রস্তাবে সমর্থন করতে সরকারের তরফ থেকে সমর্থন চাওয়া হয়েছে। পাক সংসদে এই বিল পাশ হলে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদে সরকারি শিলমোহর বসবে।
প্রশ্ন উঠছে, সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কেন এই সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করার জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে? পাক সেনাপ্রধান মুনির এই নভেম্বরে অবসর নেবেন। এক পক্ষের দাবি, সেনাপ্রধান চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসীন হতে। তিনি ইজরায়েল, আমেরিকা এবং পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশের হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চাইছেন, তাদের মন জয় করতে।
কিছুদিন আগে ইসলামাবাদে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলের আয়োজন করে তেহেরিক-ই-লৈবাক নামে একটি মৌলবাদী সংগঠন। তারা সরকার পতনের ডাক দেয়। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার আসলে আমেরিকার দালালি করছে। এই সরকার সেই দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইজরায়েলকে সমর্থন করছে। এটা ঘোর ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ। তেহেরিক-ই-লৈবাক আসলে পাকিস্তান সেনার হয়ে কাজ করে। বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক অতীতে ক্ষমতার পালাবদলের পিছনে নেপথ্য নায়ক ছিল এই মৌলবাদী সংগঠন। এবার তারা চাইছে প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে শেহবাজ শরিফকে সরিয়ে দিতে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post