বাংলাদেশের হাতে আছে আর মাত্র চার দিন। এই চারদিনের মধ্যে তদারকি সরকারকে আদানি গোষ্ঠীর বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। না হলে তারা ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকাকে আর বিদ্যুৎ দেবে না। বকেয়া আদায়ে দরকার হলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাবে।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের তদারকি সরকার এবং সরকার প্রধান ইউনূসকে কেন্দ্র করে যে সব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার মূল সুর একটাই। এই সরকার আসলে হাসিনা এবং ভারত বিদ্বেষি। তাই, ক্ষমতার রাশ হাতে নেওয়ার পর থেকে ইউনূস নানা ঘটনায় ভারতকে কাঠ গড়ায় তোলেন। হাসিনা আমলে হওয়া চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের অঙ্গ হিসেবে এবার তারা হাসিনা আমলে হওয়া আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) যে চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তি তারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তারা অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। ওই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তারা একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির রিপোর্ট বলা হয়েছে, ভারতের ওই সংস্থা বিভিন্ন অবৈধ, অন্যায়, অনৈতিক কাজে লিপ্ত। তাই, এই সংস্থার সঙ্গে হওয়া হাসিনার আমলের চুক্তি বাতিল করা হবে।
প্রথমত, এই ধরনের চুক্তি আদৌ বাতিল করা যায় কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক। তদারকি সরকার চাইলেও এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে না। কারণ, আন্তর্জাতিক আইনে তাঁর সংস্থান নেই। আর যদি সেই সব আইন লঙ্ঘন করে ইউনূস সরকার চুক্তি বাতিল করে, তাহলে আদানিকে ইউনূস সরকারের তরফে থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা এতটাই করুণ যে তাদের পক্ষে ওই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।
পিডিবির থেকে আদানির বকেয়ার পরিমাণ ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার। এই নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আদানির তরফ থেকে বাংলাদেশ পিডিবি-কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শেষবার গত অক্টোবরে তাদের চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, অবিলম্বে বাকি-বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। তা না হলে তাদের পক্ষে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ইউনূস সরকার সেই টাকা দিতে তো অস্বীকার করেছে। উলটে আদানিকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গিয়েছে। এতে যে হীতে বিপরীত হবে সেটা একবারের জন্য বুঝতে পারেনি তদারকি সরকার।
আদানি গোষ্ঠীর তরফ থেকে অক্টোবরে যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, সেখানে উল্লেখ করা হয় মডেল অব পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের ২০১৭ নম্বর ধারায়। সেই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও একটি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার পয়সা বাকি থাকলে সেই সংস্থা বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দিতে পারে। আইনে সে কথা বলা হয়েছে।
চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, আদানি গোষ্ঠীর তরফ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা ১০ নভেম্বরের মধ্যে বাকি টাকা না পেলে বাংলাদেশকে তারা আর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। চিঠিতে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, লাগাতার বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখার পরেও অন্যভাবে সে দেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সংস্থান রয়েছে। সেটা হল উৎপাদন ভিত্তিক। উৎপাদন যেমন হবে, তেমনভাবে তারা বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ফয়জুল কবির জানিয়েছে, আদানি গোষ্ঠীর বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারি স্তরে আলোচনা চলছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post