বাংলাদেশে বলা হত ধর্ম যার যার দেশ সবার। এখন সেই বাংলাদেশেই হিন্দু , বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল সংখ্যালঘুরা রয়েছে ভয়ে। মুসলিম রাষ্ট্রে তারা নিজেদের পরিচয় বলতে ভয় পাচ্ছে। আর এই সকল কিছু হচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকার মহম্মদ ইউনূসের আমলে। প্রশ্ন উঠছে, যদি সরকার নিরপেক্ষ হয় তাহলে দেশের সংখ্যালঘুরা ভয়ে কেন ? কেন তৈরী হচ্ছে এত অস্থিরতা ?
একটি রিপোর্টে এক আন্তর্জাতিক মানবাধিকারসংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এখন শুধু ভয়, নির্যাতন আর হুমকির মধ্যে দিয়ে বেঁচে আছে। এমনকি শুধু উগ্রপন্থী দলই নয়, সেনাবাহিনী আর বিচারব্যবস্থাও অনেক সময় ব্যবহার হচ্ছে এই দমননীতিতে। অর্থাৎ, এই রিপোর্টের কথা অনুযায়ী বোঝা যাচ্ছে, যে সরকার যে প্রশাসনের ওপর মানুষ ভরসা করে তারাই এখন আতঙ্কের কারণ ? বাংলাদেশে এগুলো আসলে হচ্ছে টা কী ?
সাম্প্রতিক কিছু চরম ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, যেমন – বাঁহ্লাদেশ সেনাবাহিনী দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে নাকি জোর করে দখল করেছে পাহাড়ি এক বৌদ্ধ বিহারের জমি এবং এক কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে পথে নামা তিন যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, আবার কিছু কিছু জায়গায় উপজাতি মহিলাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও সামনে এসেছিল। এ সকল ঘটনা গুলি ভাবাচ্ছে, ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকেও। বাংলাদেশের মানুষ বলছেন, এ সকল ঘটনা এখন প্রায়ই হচ্ছে চারিদিকে, ফলে এই ঘটনাগুলি এখন দেশে ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলি এখন দেশে আর কোনও বিচ্ছিন্ন বা আলাদা ঘটনা নয়। একটা ভয় ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সাথে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মানেই এখন সহজ টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, আচ্ছা বাংলাদেশে যখন যা ইচ্ছাই কী করা যায় সংখ্যালঘুদের সাথে ? আদেও বাংলাদেশের বিচার – ব্যবস্থা নিরপেক্ষ তো ? এমনকি সে দেশে কারুর বাক – স্বাধীনতা ও কী নেই ? যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্র সামাজিক মাধ্যমে কিছু লেখার পর তাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এ প্রসঙ্গে অভিযোগ উঠছে, এখন আইন ব্যবহার করা হচ্ছে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর জন্য ও মতামত দমন করার জন্য। সর্বশেষ রাস্তা আদালত, সেখানেও যখন আদালতের রায় – ই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তখন সাধারণ মানুষ যাবেন কোথায় ? কার কাছে ? একাধিক প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের বিচার – ব্যবস্থা, আইন – প্রশাসন নিয়ে।
অন্যদিকে উল্লেখিত বিষয় হল ইসকন। ইসকন কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন ঝড়। বাংলাদেশে ইসকন নামে সংগঠন চলবে না, দেশ থেকে তারাও এই দাবিতে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম সহ বড় বড় নামি শহরগুলিতে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলি কিছুদিন আগে পথে নেমেছিল। মিছিল, পোস্টার, স্লোওগান দিয়ে তারা বলেছিল ইসকন নাকি ভারতের এজেন্ট। আশ্চর্যের বিষয় হল এই মিছিলে এমন মানুষও ছিল যারা একসময় ব্লগার হত্যা মামলার আসামি ছিল। মিছিলের সেই ছবি বাংলাদেশে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে কী শুধুই রাজনীতি চলছে নাকি রাজনীতির পিছনে চলছে অন্য কোনও খেলা।
এক বিদেশী সেনার ঢাকায় সফরের পরেই বাংলাদেশে আরও হিন্দু বিদ্বেষ বাড়তে শুরু করে। যার পরেই দেশে হিন্দু বিরোধী উত্তেজনা বেড়ে চলে। অনেকের মতে, এগুলির কারণ এর পিছনে কোনও আন্তর্জাতিক ইঙ্গিত কাজ করছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সরকার সব জেনেও সব দেখেও না জানার না দেখার ভান করেন। অভিযোগ করলে গ্রেফতার হয়না, তদন্ত হয়না। উল্টে দেখানো হয় ভয়। এই টিকে থাকার লড়াইয়ে গ্রাম ও শহরাঞ্চলের মানুষরা তাদের ধর্মীয় প্রতীক সরিয়ে ফেলে নিজেদের নাম বদলে ফেলছেন। এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই আঙ্গুল উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে। যে মহম্মদ ইউনুস সরকার জগৎ খ্যাত তিনি দেশের এই পরিস্থিতিতে কেন চুপ ?
এ সকল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রই যখন এ পরিস্থিতিতে নিশ্চুপ তখন অত্যাচারিত সংখ্যালঘুরা, অত্যাচারিত মানুষেরা যাবেন কোথায় ?












Discussion about this post