গত বছর ছাত্র আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সে আশ্রয় নেয় ভারতে। হাসিনার আমল শেষ হলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হয়ে আসেন বিশ্বশান্তিতে নোবেল জয়ী ডক্টর মহম্মদ ইউনুস। ইউনুস সরকার বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেন। সাথে দলের সকল কর্মকাণ্ড ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সাথে ঘোষণা করা হয় আওয়ামীলীগের কোনও সদস্য কোথাও মিটিং – মিছিল করলেই তাদের ধরে গ্রেফতার করতে হবে। এমনকি আসন্ন বাংলাদেশের নির্বাচন থেকেও বাদ করে দেওয়া হয়েছিল দলটিকে।
সম্প্রতি হাসিনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায়ই নয় এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সরকারকে জনগণের ভোটের বৈধতা অর্জন করতে হবে। কোটি কোটি মানুষ আওয়ামীলীগকে সমর্থন করে। আপনি যদি তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেন তাহলে কোনও কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকবে না। আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত না করলে কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। নির্বাচনটিকে নির্বাচন হিসেবে গণ্য ও করা হবে না। আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের অধীনে আমি দেশে ফিরবো না। আমরা আমাদের ভোটারদের অন্য দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা করছি বিবেকবোধ জাগবে, আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রন করতে দেওয়া হবে। যদিও এ সকল বিষয়ে ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রথমে পরিস্থিতি ভিন্ন থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তা বদলাতে শুরু করে। ভারতের আশ্রয়ে নয়া দিল্লীতে বসে দলের নেতা – কর্মী ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন দলনেত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনার নেতৃত্বে দলের নেতা – কর্মী – সমর্থকেরা বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা মিছিল শুরু করেন। আস্তে আস্তে সেই মিছিল বড় আকার ধারণ করে। মিছিলে জমায়েত হতে থাকেন সাধারণ মানুষ ও পথ চলতি মানুষেরাও। মিছিলে আগত মানুষদের ছাড় মেলে বাসের ভাড়াতেও। নানা দিক থেকে সমর্থন আসতে শুরু করে আওয়ামীলীগের পক্ষে। আবারও মানুষ ভরসা করতে শুরু করে দলটিকে। আবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছায় আওয়ামীলীগ। বহু চেষ্টার পরেও ইউনুস আওয়ামীলীগ ও দলের নেত্রী হাসিনাকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। আন্তর্জাতিক নানান চাপের মুখে পরে মহম্মদ ইউনুস সরকার আওয়ামীলীগের নিষিদ্ধতা তুলে নেন এবং তুলে নেন দলের ওপর থাকা সকল নিষেধাজ্ঞা। এত কিছুর পরেও জল্পনা ছড়ায় পুনরায় আওয়ামীলীগ ফিরছে সাথে দেশে ফিরছে শেখ হাসিনাও। এর পরেই আরও অতিষ্ট হয়ে ওঠেন ইউনুস। ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার ভয় সে নানা ধরণের ছল – চাতুরী কষতে থাকে। শেখ হাসিনা সহ তার ঘনিষ্টদের ওপর একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্তাদের। অতঃপর সকল চেষ্টা ও সকল জল্পনা কাটিয়ে দেশে ফিরতে চলেছে হাসিনা ও তার দল। তা বাস্তবায়িত করার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরুও হয়ে গেছে।












Discussion about this post