বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন কেমন? একেবারেই ঠিকঠাক, নাকি খুব খারাপ? সে বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের এবার সেনা ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হল। আপাতত ঠিক হয়েছে, ৫০ শতাংশ সেনাসদস্য এবং আধিকারিকদের মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হবে। বাকিরা থাকবেন যথারীতি। ঢাকার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে গভীর পরিকল্পনা। যাতে বাংলাদেশের নির্বাচন ভেস্তে দেওয়া যায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, সেনাসদস্যদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণের জন্য অর্ধেক সদস্যকে আপাতত মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হবে। বুধবার থেকে সেই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরুও হয়ে গেল। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই মুহূর্তে সারা দেশে ৩০ হাজারের মতো সেনাসদস্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠে রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর ১২ থেকে ১৫ হাজার সেনাসদস্য মাঠে থাকবেন। বাকিরা ব্যারাকে ফিরে যাবেন। তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কে নিয়ন্ত্রণ করবে? বাংলাদেশ পুলিশের সে ক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি, বহু থানার পুনর্গঠনও হয়নি, বহু থানায় পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী নেই। উল্লেখ্য, এই কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল গত বছরের ১লা আগস্ট থেকে। সেই ক্ষমতার সময়সীমা ধাপে ধাপে বাড়নোও হয়। অর্থাৎ, সেনা আধিকারিকরা চাইলে কাউকে গ্রেফতার করতে বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারতেন পুলিশের মতো। জানা যাচ্ছে, এই মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ শেষে দিকে। তার আগেই এই সিদ্ধান্ত নিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন দেখার এটা আরও বাড়ানো হয়, নাকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত ১৪-১৫ মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন-পরবর্তী সহিংসতা, লুটপাট, মব জাস্টিস, অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতেই পারেনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং হানাহানির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে টার্গেট করে সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে বলেও দাবি। অন্যতম উদাহরণ গোপালগঞ্জের ঘটনা। যেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উপর গুলি চালিয়ে দেয় বাংলাদেশ সেনা। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামেও একই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
ইতিমধ্যেই শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের বাদ দিতে শুরু করেছে জাতিসংঘ। এর একাধিক কারণের মধ্যে একটা কারণ হিসেবে বাংলাদেশ সেনার উপর আসা নানা অভিযোগকেও চিহ্নিত করেছে কূটনৈতিক মহল। তবে আপাতত বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। জায়গায় জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠী কোন্দলের খবর আসছে। ইতিমধ্যেই বিএনপির এক ঘোষিত প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ থেকে যদি ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনী তুলে নেওয়া হয় তাহলে পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর উপর চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ দাবি করছেন, নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেই নির্বাচন ভেস্তে দেওয়ার পায়তাড়া কষা হবে। ফলে সেনাবাহিনী তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post