সেই ৯ মাস আগের কথা, বাংলাদেশের বুকে ঘটে গিয়েছিল এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। প্রায় দুদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাসভবন ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, সেনাবাহিনী কার্যত দূরত্ব বজায় রেখে মজা নিয়েছিল। ঘৃণ্য কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছিলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাই সোশ্যাল মিডিয়াতে লাগাতার মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছেন। অদ্ভুত যুক্তি, যারা ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দিল, তাঁদের নাকি উৎসাহিত করেছেন তাঁরই কন্যা, পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় ইউনূস বলেছিলেন, ভারতের উচিত হাসিনার মুখে রাশ টেনে ধরা। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও। যদিও ভারত এর কোনও জবাবই দেয়নি।
এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে অবশেষে ভোটের বাদ্যি বাজিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যদিও ভোট নিয়ে এখনও অনেক আশঙ্কা রয়েছে। তবুও তিনি জানিয়েছেন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি ইতিমধ্যেই ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা গেল চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন আচমকা এক শুটআউটে বিএনপি প্রার্থী জখম হলেন। আর গুলিতে প্রাণ গেল এক বিএনপি সমর্থকের। চট্টগ্রামে বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। ওই জনসংযোগে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নামে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও নিহত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, নির্বাচনের মুখে অস্থির বাংলাদেশের অর্ধেক সেনাকে ব্যারাকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি কীভাবে ঠেকাবেন মুহাম্মদ ইউনূস? কীভাবেই বা আওয়ামী লীগকে ঠেকাবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত সোয়া বছর ধরে ভারতের আশ্রয় ও আতিথেয়তায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আদৌ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে যে পরিমাণ কূটনৈতিক তিক্ততা তৈরি হয়েছে তা এক কথায় নজিরবিহীন। এই আবহেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ আচমকাই সে দেশে নিজেদের সাংগঠনিক জোর দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা-সহ বাংলাদেশের একাধিক শহরে দলটির অসংখ্য ছোট-বড় ঝটিকা মিছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে নাজেহাল করে দিচ্ছে। এই আবহে ৫০ শতাংশ সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে তুলে ব্যারাকে পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে নির্বাচনী ইস্যুতে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বাংলাদেশ। যা সামলানোর ক্ষমতা এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নেই। কারণ, গত বছর আগস্টে সরকার পরিবর্তনের অব্যবহিত পরেই যে ভাবে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক পুলিশ স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, তাতে পুলিশ সিস্টেম কার্যত ধ্বংস বাংলাদেশে। পাশাপাশি অভিযোগ, ওই সময় তিন হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী ও আধিকারিককে খুন করা হয়েছিল। তাতে পুলিশের সাহস ও নৈতিকতা কার্যত নষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একটি অংশ অবশ্য দাবি করছে, ইউনূস আসলে চাইছেন যে আসন্ন নির্বাচন পিছিয়ে যাক। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই সেনাবাহিনীকে তুলে নেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে যেটুকু অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটাও যাবে। আর এই সুযোগে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার ফন্দি আঁটবে ইউনূস ও তাঁর দোসররা।












Discussion about this post