মহা সমারোহে বাংলাদেশের বহুকাঙ্খিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার পরও এই সনদ বাস্তবায়নের দিকে কোনও রাজনৈতিক দলেরই হেলদোল নেই। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনৈক্য-বিভেদ দূর করে সমঝোতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনও হেলদোল আছে বলে মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দাবি, আসলে মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। তাহলে কি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পুর দিন শেষ হতে চলেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন ইনিংস কি শুরু হতে পারে?
যতদূর জানা যাচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তাবায়নের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামী সামান্য উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা জোরালো ছিল না। ফলে সেই চেষ্টা বৃথাই গিয়েছে। মজার বিষয় হল, জামাত কিছুটা চেষ্টা করলেও বিএনপি নিজের দিক থেকে কোনও উদ্যোগই নেয়নি। বরং তাঁরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২৩৭ জনের একটা প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আবার এই বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে দায় সেরেছে। অর্থাৎ কোনও দলই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন যে চর্চাটা চলছে, সেটা হল অন্তর্বর্তী সরকার কোন এক্তিয়ার থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে সময়সীমা বেধে দেয়। আর এই সময়সীমার মধ্যে বিষয়টি মিমাংসা না হলে কি হবে? কেউ কেউ দাবি করছেন, এ ক্ষেত্রে সরকার নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর সকলেই জানে, এই মুহূর্তে ইউনূসের সরকারের চাবিকাঠি জামাতের হাতেই রয়েছে। অর্থাৎ সুবিধা পাবে জামাত শিবির ও তাঁদের সঙ্গে থাকা দলগুলি। অন্যদিকে, বিএনপির দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করে সরকার এবং অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলির উপর যে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে, তা মাঠে মারা যাবে। প্রসঙ্গত, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়েছে, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট হবে। গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। তবে গণভোট কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। আর এখানেই চলছে আসল খেলা। জামাত চাইছে নভেম্বরেই গণভোট করতে, বিএনপি বলছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হোক।
আসলে গণভোট কবে ও তার বিষয়বস্তু কী হবে—এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কিন্তু ঐক্যমত না হলেই অন্তর্বর্তী সরকার নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে সুবিধা হবে মুহাম্মদ ইউনূসেরই। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যেমন স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, আমরা অপেক্ষা করব। তারপর সরকার সরকারের মতো পদক্ষেপ নেবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পর নিজেকেই রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে দিতে পারেন। সেই পরিকল্পনা রয়েছে একটা মহলে। কারণ, বিএনপি ও এনসিপি কোনও মতেই মেনে নেবে না যে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্বাক্ষর করানোর বিষয়টি। নাহিদ ইসলাম ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেথেছেন, প্রেসিডেন্ট চুপ্পু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে সংস্কারের কফিনে পেরেক মারা হবে। এখান থেকেই বলা হচ্ছে, এই জুলাই সনদ বাস্তাবায়নের জন্য স্বাক্ষর করবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ এই সরকার অভ্যুত্থানের সরকার, আর সেই সরকারের প্রধান হিসেবে ইউনূস সাহেবের অধিকার আছে অভ্যুত্থানের দলিল, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির পাতা কেটে দিয়ে তাঁকেই বকলমে রাষ্ট্রপতি করে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post