পাকিস্তান যে আর বাংলাদেশের শত্রু নয়, সেটা একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস ভুলে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা করেছে বাংলাদেশ। এখন দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান থেকে আসছে একাধিক জাহাজ। কিন্তু ওই জাহাজে কি পণ্য আসছে? যারা পাকিস্তানপন্থী চিন্তা ভাবনার বিরুদ্ধে, তারা এই প্রশ্ন তুলতেন। তবে এখন সেই প্রশ্নের উত্তর সামনে এল। পাকিস্তান থেকে যে জাহাজ এসেছে, তার মধ্যে ২৫ টন মাদক রয়েছে বলে খবর। কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ এই মাদককে চিহ্নিত করতে পেরেছে। এবং সেগুলি আটকে দিতে পেরেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেই যায়, বন্ধুত্বের নাম দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক নতুন করে স্থাপন হচ্ছে, সেটা শুধুমাত্র বন্ধুত্বে আটকে নেই। লেনদেন হচ্ছে একাধিক জিনিস। কেউ কেউ বলছেন, ঝুলি থেকে তবে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল? তবে পাকিস্তান থেকে গোপনে মাদক ঢুকছে?
গত বছর ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ভারত বিরোধীতা বেড়েছে। বেড়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা। এমনকি বাংলাদেশের অন্তবর্তাকীলান সরকার মুক্তিযুদ্ধকে যে ভুলতে চায়, সেটাও বারবার লক্ষ্য করা গিয়েছে। তারমধ্যে দুই দেশের মধ্যে আদান প্রদান বেড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় সেনাকর্তা বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছেন। এখন দেখা গেল, পাকিস্তান থেকে আসছে জাহাজ। বাংলাদেশের একটি কোম্পানি ৩২ টন পাখির খাদ্য আমদানি করেছে পাকিস্তান থেকে। তারমধ্যে ২৫ টন নাকি নিষিদ্ধ মাদক। দুটি কন্টেনারে এই পণ্য আমদানি করেছে চট্টগ্রামের কুরবানিগঞ্জের মের্সাস আদিব ট্রেনিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অঙ্কুরোদ্দম উপযোগি হলে পপি বীজ মাদক বলে গণ্য করা হয়। সরকারি নীতি আদেশে এটি নিষিদ্ধ। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানিকৃত বীজের মূল্য সাড়ে ছয় কোটি। এটি কাস্টমস অফিসারদের নজরে এলে আমদানি স্থগিত করা হয়। এরপর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে গেলেই সেটি চিহ্নিত করা হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছে প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল। অর্থাৎ অন্তবর্তাকালীন সরকারের বয়স দেড় বছর। এই দেড় বছরে একাধিক জাহাজ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এমনকি অনেক সময় কোনও পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই সেগুলিকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এখন সামান্য পরীক্ষা করতে গেলেই সামনে এল ভয়াবহ বিষয়। অর্থাৎ এতদিনে বাংলাদেশে বহু নিষিদ্ধ জিনিস প্রবেশ করেছে, তা আৎ বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি তারমধ্যে অস্ত্রশস্ত্রও যে থাকতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে বিশ্বের বহু দেশ অকার্যকর বলে চিহ্নিত করে। সেখানে কীভাবে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়ায়? যদিও আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম মহরম বাড়িয়েছে। আর তাতেই আরও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। অনেকে আস্থার জায়গা করতে চাইছে পাকিস্তানকে। যেটা পরবর্তীকালে সংকট নিয়ে আসবে, সেই সমস্ত দেশের জন্য। যদিও এখন দেখার, এই ঘটনার পর টনক নড়ে কিনা বাংলাদেশ সরকার বা প্রশাসনের!












Discussion about this post