জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আবারও অশান্তির আশঙ্কা বাংলাদেশে ? গত বছর কোটা আন্দোলনকে সামনে রেখে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশে। এরপর গণঅভ্যুথানের জেরে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রধানমন্ত্রীত্ব ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। হাসিনার জমানা শেষ হলে শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনূসের জমানা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের নির্বাচন করানোর জন্য পুরোদমে তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তবে ঘোষণা করা হয়নি নির্বাচনের তারিখ। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার মহম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন বাংলাদেশের জেলবন্দি বিচারাধীন আসামি ও সাজাপ্রাপ্তরাও। খুব শীঘ্রই এ ব্যবস্থা করতে চলেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে জুলাই সনদ গণভোট নিয়ে শুরু হয়েছে জোড় বিতর্ক। চলতি বছরের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ৩৬ জুলাই উদ্যাপন শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল। ২৮ দফার ওই ঘোষণাপত্র হল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল। যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান এবং হাসিনার আমলে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারের পাশাপাশি সমালোচনা করা হয়েছে দুই সেনাশাসক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেন মহম্মদ এরশাদের জমানারও। সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর হিসাবে ঘোষণার কথা বলা হয়েছে ওই সনদে। যদিও তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ। জামাত নেতৃত্ব সই করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একাংশের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এখনও সনদে স্বাক্ষর করেনি। সাথে জুলাই সনদ গণভোট নিয়ে এখনও কিছু ঘোষণা করেননি মহম্মদ ইউনূস। এ আবহে অন্তর্বর্তী সরকারের উপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামি। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছে বাংলাদেশে।
বৃহস্পতিবার জামাতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সত্যিই যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়। তাহলে সেটা সরকারের নির্দেশেই হবে। ফেব্রুয়ারি কাছাকাছি চলে এসেছে, কিন্তু গণভোটের তারিখ ঘোষণা হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে। এই দাবি আমরা বারবার তুলে আসছি। এরপরেও কেন গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না ? জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট না করালে আগামীতে খুব খারাপ ফল ভোগ করতে হবে। ইউনূস যদি দাবি না মানে, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের জেরে হাসিনা সরকার ক্ষমতা হারানোর কয়েকদিন আগে জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা জমানা শেষ হয়ে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক দল জামাতের দাপট ক্রমশই বাড়ছে বাংলাদেশে।
জামাত এখন অন্তর্বর্তী সরকার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী সহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে তাদের হুঁশিয়ারি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অশান্তির আশঙ্কা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, জামাতের এই হুঁশিয়ারি ইউনূসকে কার্যত চাপে ফেলছে সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post