মানবতাবিরোধী কাজ যেমন গুম, গুমখুন, ধর্ষণ, জেলে পিটিয়ে হত্যা সহ একাধিক মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনার বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মামলায় দায়ের হয়েছে। তার আগে আইসিটি-য়ের একটি ধারা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ধারায় বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা মাত্র তারা তাদের সরকারি পদ হারাবেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে বাংলাদেশ সেনার যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা কী? তারা কি চাকরি হারিয়েছেন? বা তাদের কি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে? গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছিল গোটা বাংলাদেশ। অবশেষে বুধবার ৫ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল ঠিকই। কিন্তু সেই উত্তরে ধোঁয়াশা একেবারে কেটে গিয়েছে, তা বলা যাবে না। উত্তর অনেকটাই অশরীরী আত্মার লিরিক কম্পনের মতো।
বুধবার সেনা সদরে এজি শাখার পার্সোনেল সার্ভিসেস অধিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান এক সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর কাছে ওই ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আইনি এবং প্রক্রিয়াগত কাঠামোর মধ্যে পড়ে। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত আইসিটি আইনের তৃতীয় সংশোধনীতে সরকারি চাকরিতে যোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়টি এসেছে।’ আইসিটি আইনে অভিযোগপত্রে নাম এলে চাকরিতে কোপ পড়বে না পড়বে না, সেই বিষয়ে সেনাসদর স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যে তারা এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। ব্রিগেডিয়ার মুস্তাফিজুর রহমান এও বলেন, ‘এটি একটি আইনি প্রক্রিয়াগত বিষয়। আপনারা জানেন যে ১৯৫২ সালের সেনা আইন এবং ১৯৭২-য়ের আইসিটি আইন দুটোই বিশেষ আইন। এই দুটি আইনকে আমরা কখনই মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারি না। বর্তমানে সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তি আইসিটি অ্যাক্ট। সরকারের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। সরকারের কাছে আমাদের আশা বিচারপ্রক্রিয়া একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে। ’ ব্রিগেডিয়ার এও বলেন, সরকার যদি সেনা আইনে এদের বিচার চায়, তাহলে সেই আইনেও এদের বিচার হতে পারে। তারা মানসিকভাবে তার জন্য প্রস্তুত।
সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচনে বাহিনীর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোনও কারণে ভোট না হলে বা ভোট বানচাল হলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে। ব্রিগেডিয়ার রহমান সরাসরি এই প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ভোটের জন্য বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিছুদিন আগে এই একই প্রশ্ন করা হয় মিলিটারি অপারেশস ডিরেক্টরেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেনকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও চায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান সাক্ষাৎ করেছেন। আলোচনার বিষয়বস্তু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন বলে, একটি সুষ্ঠ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রাথমিক শর্ত হল স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সেটা যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্য তারা কাজ করছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post