পাড়ার রোয়াক জন্ম দিয়েছে বহু ব্যঙ্গাত্মক উক্তির। তার মধ্যে এই উক্তিটি বেশ জনপ্রিয় – ‘পাগল করে দে মা, কাগজ কুড়িয়ে খাই’।
বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের এখন সেই দশাই হয়েছে। বাতাসে ভাসতে শুরু করেছে যে তিনি তাঁর ‘যন্তরমন্তর কক্ষ’ যমুনায় ফতুয়া আর পায়জামা পরে এ ঘর থেকে ও ঘর পায়চারি করছেন, কপাল চাপডা়চ্ছেন। বিড়বিড় করে বলছেন ‘পাগল করে দে মা, কাগজ কুড়িয়ে খাই’। দৃশ্যটা একবার চিন্তা করুন। তাঁর এই ভবাপাগলা দশার কারণ মার্কিন গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকানের একটি রিপোর্ট (আইআরআই)। গত অক্টোবরে তাদের এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ঘুরে যায়।
আন্তর্জাতিক নীতি এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই মিশন গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ আসে। ২৪ অক্টোবর তাঁরা আমেরিকা ফিরে যায়। দেশের নির্বাচনী পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরনের সম্ভাবনা কতটা, তার মূল্যায়ন করতে প্রতিনিধিদল এসেছিল। তারা বৈঠক করে তদরকি সরকার প্রধানের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান ওই প্রতিনিধিদলকে বলেন, ‘সব ঠিক হ্যায়’। আর আমেরিকায় ফিরে তাদের রিপোর্ট বলছে, – সব ঝুট হ্যায়।
গত বৃহস্পতিবার তারা তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্টকে বাংলার বিখ্যাত বুড়িমার চকোলেট বোমার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই ভালো নয়। তদারকি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে। ড. ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। প্রাক নির্বাচনী পর্বে যাতে আইন-শৃঙ্খলার কোনও অবনতি না হয় সে দিকেও তাঁর সরকার লক্ষ্য রাখবে।
বাংলাদেশ আইন তো কবেই উঠে গিয়েছে। এখন চলছে ‘একুশে আইন।’ সুকুমার রায়ের ওই কবিতায় একটি পংতির সঙ্গে বাংলাদেশের আইন-কানুনের ছবির অনেকটা মিল পাওয়া যায়। ‘চলতে গিয়ে কেউ যদি চায়/এদিক- ওদিক ডাইনে বাঁয়,/রাজার কাছে খবর ছোটে/পল্টনেরা লাফিয়ে ওঠে/দুপুর রোদে ঘামিয়ে তায়/- একুশ হাতা জল গেলায়।’
যাওয়া যাক আইআরআই-য়ের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে। নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সেটা করতে গেলে কী পদক্ষেপ করা দরকার, তার জন্য তারা তদারকি সরকারকে তারা আট দফা সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশে যে হারে উগ্রপন্থা এবং মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে তারা যে রীতিমতো উদ্বিগ্ন, রিপোর্টে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে। প্রতিনিধিদল উলটে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের ‘বড়ো দল’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যলাভের জন্য ইউনূসের গলায় তারা তিনটি ‘মাদুলি’ ঝুলিয়ে দিয়েছে। আবার তারা এটাও বলছে, ওই মাদুলি দিলেও কোনও লাভ হবে না। কারণ, ইউনূস নিজেই ঘড়ির পেন্ডুলামের থেকেও জোরে জোরে দুলছেন আর বলছেন ‘পাগল করে দে মা, কাগজ কুড়িয়ে খাই’। কী সেই তিনটি ভোকাল টনিক?
প্রথমটি হল সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে। দ্বিতীয়টি দেশবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ইউনূস সরকারের দায়িত্ব দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যে নিজেই মানসিক দিক থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তিনি কী করে দেশবাসীর নিরাপত্তার গ্যারান্টার হবেন। তৃতীয়টি তো আরও ভয়ঙ্কর। বলা হয়েছে, ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার এজেন্ডাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এটাও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, তিনি নিজে ডুবেছেন। সঙ্গে দেশটাকেও দক্ষতার সঙ্গে ডুবিয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post