বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথা হয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে এই দাবি করা হয়েছে। ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৫ নভেম্বর দিল্লিতে আশ্রিত বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শিয়ের কথা হয়েছে। যদিও কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ওই গণমাধ্যমের দাবি, হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে চিন তাঁকেই দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ চিনের কী এমন হল যে হাসিনার সঙ্গে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ফোনে কথা বললেন?
একটি কারণ নয়, একাধিক কারণে দুইয়ের মধ্য কথা হয়েছে বলে ওই গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রথম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তুলসী গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। সম্প্রতি তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘দশকের পর দশক আমাদের বিদেশনীতি ছিল সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) বা জাতি গঠনের এক ধরনের ব্যর্থ চক্রে আটকে ছিল। এটি ছিল সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি নীতি যেখানে সরকার উৎখাত করা, স্বাধীন একটি দেশে আমাদের শাসনব্যবস্থা চাপানোর চেষ্টা করা, সেই সঙ্গে না জেনে নানা সংঘাতে হস্তক্ষেপ করা। এর ফলে মিত্রের চেয়ে শত্রু বেড়েছে।’ গ্যাবার্ড এও বলেন, সেই বিদেশনীতির এবার অবসান ঘটতে চলেছে। তাঁর এই মন্তব্য একপ্রকার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি বলা যেতে পারে।
এই আবহে চিনের প্রেসিডেন্ট শি-য়ের ফোন গেল হাসিনার কাছে। এশিয়ার তিন শক্তিধর দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন, সেটা এই ফাঁকে একবার খতিয়ে দেখা যাক। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে মস্কোর সঙ্গে দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সময় যত গড়িয়েছে, সেই তিক্ততার অবসান ঘটেছে। এখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের মতো। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে ভারত সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়ার থেকে অশোধিত তেল কেনার। অপর দিকে, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন অনেকটাই হার্দিক। যদিও ছোটখোটা সমস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মৃদু উচ্চস্বরে কথাকাটাকাটি হয়েই থাকে। তবে সম্পর্কের পারদ ততটা উত্তপ্ত নয়। আগে যতটা ছিল। তবে এই ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা অবদান আছে।
ট্রাম্পের চড়া হারে শুল্ক আরোপে বেজায় চটেছে চিন। অসন্তুষ্ট ভারত। আর এই শুল্ক দুই দেশকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। চিন এবং ভারতের একটি সাধারণ সমস্যা হল সন্ত্রাসবাদ। চিন কিন্তু উইঘুরদের নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত। তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান ভারতের উদ্বেগ ছিল। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বাংলাদেশ। ভারত যেমন চাইছে হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতার রাশ হাতে নিক, একই ইচ্ছা চিনেরও। এমনকী রাশিয়াও চাইছে বাংলাদেশের ক্ষমতার রিমোট হাসিনার হাতেই থাকুক। তাই, তারা হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে আবার দেখতে চাইছে। ভারতের ওই গণমাধ্যমের দাবি, এই তিন দেশের মধ্যে ব্যাকডোরে হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিন বুঝে গিয়েছে বাংলাদেশে পরবর্তী সরকার প্রধান পদে যিনি আসীন হতে চলেছেন, সেই হাসিনার সঙ্গে সখ্য তৈরি করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা আর তাদের সামনে খোলা নেই। সে কারণে গত ৫ নভেম্বর হাসিনাকে ফোন করে প্রেসিডেন্ট শি।












Discussion about this post