রাষ্ট্রপতি সাহাবু্দ্দিন চুপ্পুকে কি তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিতে তদারকি সরকার নীল নকশা তৈরি করেছে? সরকারিভাবে এই প্রশ্নে এখনও সিলমোহর পড়েনি। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রতিবেদন সেই সব ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনাবলী নিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে হাসিনা সরে যাওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও যেন চুপ করে গিয়েছিলেন। সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁকে কখনও বঙ্গভবনের বাইরে আসতে দেখা যায়নি। তিনি কার্যত অবৈধ সরকারের রবার স্ট্যাম্প হয়ে ওঠেন। তদারকি সরকারের তরফ থেকে যে সব বিল তাঁর কাছে সইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, তিনি একপ্রকার বাধ্য হয়ে সেই সব অধ্যাদেশে সই করেন। রাষ্ট্রপতি কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েন। তাঁর বহু দফতরে তদারকি সরকার তালা মেরে দিয়েছে। তুলে দেওয়া হয়েছে প্রেস উইং। তাঁর দফতরের বহু কর্মী অনিয়মিত। এককথায় হাসিনা আমলে যে রাষ্ট্রপতির দফতর খুব সক্রিয় ছিল, সেই একই দফতর আচমকাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। বলা ভালো, তদারকি সরকার চুপ্প এবং তাঁর দফতরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখে।
কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পাবনা তাঁর দেশের বাড়ি বেডা়তে যাবেন। প্রথম শোনা যায় এই সফর চারদিনের। পরে শোনা যায়, সফর বাতিল হতে পারে। কিন্তু সর্বশেষ খবর হল ২৪ ঘণ্টার জন্য তিনি পাবনায় তাঁর দেশের বাড়ি যাবেন। প্রশ্ন উঠছে, যে রাষ্ট্রপতি গত ১৫ মাসে রাষ্ট্রাচারের বাইরে কিছু করেননি তিনি হঠাৎ করে দেশের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? সাদা চোখে এই সফর দেখলে কোনো সন্দেহের উদ্রেক করে না। কিন্তু সফর যেভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে, তাতে জন্ম দিচ্ছে একাধিক প্রশ্নের। প্রথমে পাবনা সফর চূড়ান্ত করার পরে কেন তাঁর দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, রাষ্ট্রপতি চুপ্পু পাবনা যাবেন না। আর সেই ঘোষণার পরে পরে এল দ্বিতীয় গুঞ্জন। তিনি যাবেন, তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য। কী এমন হল যার জন্য তিনি এমন ঝটিকা সফরের সিদ্ধান্ত নিলেন?
বলা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা করেছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। ভারতের একটি গণমাধ্যম এই রকম একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ, গণভোট, নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ যখন আলোচনায় ব্যস্ত, সেই সময় গোপনে পদ্মাপারে পট পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ইউনূস সেই পদে আসীন হতে চাইছে। ’ বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের দাবি, সম্প্রতি বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করেন ইউনূসের এক আইনজীবী। তিনি নাকি রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ছেড়ে হাওয়া বদলের জন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকী তিনি এটাও নাকি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, চাইলে তিনি চেকআপের জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।
সূত্রের খবর, তদারকি সরকারের ওপর থেকে রাষ্ট্রপতিকে কৌশলে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সম্প্রতি হার্ট অপারেশন হয়। তিনি বিদেশে চেক আপের জন্য যেতে চান বলে সরকারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সবুজ সংকেত দেয়নি। ইউনূসের ওই আইনজীবী রাষ্ট্রপতি চুপ্পকে বলেছেন, তিনি চাইলে এবার বিদেশে চলে যেতে পারেন। তবে সেটা একেবারের জন্য। সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি আরও জোরাল হয়েছে তাঁর মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট, সেকেন্ড হোম এবং দুবাইয়ে যৌথ ব্যবসা থাকার খবরে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post