প্রতিবেদন শুরু করা যাক বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অতীতের একটি ঘটনা নিয়ে।
বাংলাদেশের একটি অভিজাত হোটেল থেকে এক মার্কিন নাগরিকের নগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম জ্যাকশন। এই নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি বয়ান ছিল একেবারে বাঁধা গতের। কিন্তু ওই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাস আচমকাই ব্যস্ত হয়ে ওঠে। দূতাবাসের কয়েকজন কর্মী, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলাও ছিলেন, তাঁরা দ্রুত ওই হোটেলে পৌঁছে অতি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে জ্যাকশনের দেহ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কেন এই তা়ডাতাড়ি? বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বয়ানের সঙ্গে তো মৃত মার্কিন নাগরিকের সম্পর্কে উঠে আসা তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। আর তথ্য বলেছে, জ্যাকসন আদতে একজন মার্কিন সেনা। তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে থাকে – এই মৃত্যু কি স্বাভাবিক? স্বাভাবিক হয়ে থাকেল বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ওতো তাড়াহুড়োর কী দরকার ছিল? কেন ময়নাতদন্ত ছাডা়ই দেহ আমেরিকায় ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হল।
যে খবরের সূত্রে এই গৌ়ড়চন্দ্রিকা, তিনি হলে জাকির নায়ক। এই জাকির নায়ক নিজেকে মুসলিম ধর্মগুরু বলে প্রচার করলেও তাঁর আসল পরিচয় সে একজন ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদী। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে হলি আর্টিজেন বিস্ফোরণের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় এই মুসলিম ধর্মগুরুর। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যাঁকে গ্রেফতার করা হয়, সে স্বীকার করে নিয়েছে, ইউটিউবে জাকিরের দেওয়া ভাষণ শুনে সে অনুপ্রাণিত। মৌলবাদী শক্তিকে কায়েম করতেই ওই হামলা।
এর ঠিক তিন বছর বাদে শ্রীলঙ্কা হয়েছে ইস্টার বম্বিং। সেই ঘটনাতেও জড়িয়ে যায় জাকিরের নাম। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইয়ের তালিকায় নাম ছিল জাকিরের। জাকির পালায় মালয়েশিয়া। ভারত থেকে মালয়েশিয়াকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন এই বিচ্ছিন্নতাবাদীকে তাদের হাতে তুলে দেয়। মালয়েশিয়া সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জাকিরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। বকলমে বলা হয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান জাকিরকে বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণের করেছে। সূত্রের খবর, জাকিরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করার অন্যতম কারণ তাঁকে কাজে লাগিয়ে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া। ঠিক ছিল জাকির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে ইসলামি জিহাদির স্বপক্ষে বক্তব্য রাখবে। এমনকী এই মুসলিম ধর্মগুরুর অনুষ্ঠান টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় জাকির যে দেশে বা যেখানেই যান না কেন সেখানাকার কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করবে। জাকির প্রসঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে উদ্বেগের বিষয়গুলি আছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশ পূরণ করবে। এই বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ। জাকিরকে জানিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশে এলে তদারকি সরকারের তরফ থেকে তাঁকে যথাযথ নিরাপত্তা তারা দিতে পারবে না। অনুমান করা যায়, কী ধরনের নিরাপত্তার কথা এখানে বলা হচ্ছে।
সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যায় না যে জাকির বাংলাদেশে গেলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। তবে এটা বলা যেতে পারে, বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকলে তা বন্ধ করার ওষুধ আছে। সেই ওষুধ কোনও না কোনও প্রান্ত থেকে প্রয়োগ করা হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post