বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি মাঠে নেমে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। দিকে দিকে মিছিল, জন সংযোগ। তবে সবের মাঝে স্বমহিমায় রয়ে গিয়েছেন শেখ হাসিনা। কখনও তাঁর আমলের প্রশ্ন তুলে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা ভোট প্রচার করছেন, কখনও বা তাঁকে কালিমালিপ্ত করে সাধারণের ভোট জেতার চেষ্টা করছেন। এরমধ্যে সবথেকে বেশি লক্ষ্যণীয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য ও বড় সংবাদমাধ্যমের নেরেটিভ সেট। বিবিসি বাংলা, যা বাংলাদেশের সবথেকে জনপ্রিয় এবং বড় সংবাদমাধ্যম। তার বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। আর সেই সংবাদমাধ্যমের সম্প্রতি প্রতিবেদনে উঠে আসছে উল্টো হাওয়া বদলের খবর। যা ঘিরে এখন বাংলাদেশ তোলপাড়। এখন ভাবছেন তো, কি এমন ফাঁস করল তারা? যে কারণে এখন হইচই কাণ্ড ওপার বাংলায়!
বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যেখানে শেখ হাসিনাকে তারা ইতিবাচক হিসাবে প্রচার করছে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাঁর দেশে ফেরার ইঙ্গিতও উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। যেটা ভারতও চায়। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। ৫ই অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এখনও তিনি ভারতে রয়েছেন। দেশে ফেরানোর জন্য বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে নয়া দিল্লিকে। কিন্তু কোনও উত্তর পায়নি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে দেশে নির্বাচনের জন্য তোড়জোড় করা হয়েছে। বিএনপি এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশে। তবে পিছিয়ে নেই জামায়েতি ইসলামিও। অন্যদিকে কোনও কোনও সংবাদমাধ্য বলার চেষ্টা করছে, এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি সরকার গঠন করবে। কিন্তু তাদের সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার। অর্থাৎ নির্বাচন হলে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিচার্য বিষয়। এরই মধ্যে বিবিসি বাংলা একটি নতু নেরেটিভ সেট করার চেষ্টা করছে। একাধিক প্রতিবাদনে শেখ হাসিনাকে ইতিবাচক হিসাবে উপস্থাপন করছে। পূর্বে ভারতের সঙ্গে কি সম্পর্ক ছিল শেখ হাসিনা সরকারের, সেটা তারা তুলে ধরছে। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং থেকে সোনিয়া গান্ধি, তাঁদের সঙ্গে কি সম্পর্ক ছিল, কিভাবে শেখ হাসিনাকে খাতির করা হয়েছে ভারত সফরকালে, সেগুলি তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা। এমনকি নির্বাচনের আবহে, যখন বিএনপি, জামায়েতি ইসলামি, এনসিপির দাপট বাংলাদেশে, তখন ব্রাত্য থাকা বা নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারে, এমন বলা হচ্ছে বিবিসি বাংলার তরফে। অর্থাৎ তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ ফিরতে চলেছেন শেখ হাসিনা। এমনকি সম্প্রতি তিনটি আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যমে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানেও তাঁর কিছু বক্তব্য বা মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনার জন্য ভারত সমস্ত ধরণের সূত্রকে কাজে লাগচ্ছে এবং লাগাবে। তবে বিবিসির প্রতিবেদন সত্যি হলে, দেশের পরিস্থিতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে, যাবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, শেষমেশ পদ্মাপাড়ের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়!












Discussion about this post