সমস্ত কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে বাংলাদেশে। এই মুহুর্তে দেশের চারটি প্রথমসারির রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়েতি ইসলামি এবং এনসিপি পুরোদমে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছে। জনসংযোগ থেকে সংগঠনের কাজ…ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অবস্থান কী? তাদের কি পরিকল্পনা দেশের নির্বাচন নিয়ে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য চারটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। কারণ সোশ্যাল মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত। তৈরি রয়েছে মূলত চারটি পরিকল্পনা। আসলে হাসিনা চাইছেন, বাংলাদেশে যদি নির্বাচন হয়ে থাকে, তবে শেখ হাসিনার দল থাকবেই। কি সেই চারটি পরিকল্পনা? চলুন আলোচনা করা যাক।
প্রথমত, শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভাবনার জায়গা তৈরি করা। প্রথমদিকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন অডিও বার্তার মাধ্যমে বলতেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। মাঝখানে বিষয়টি থিতিয়ে গেলেও এখন নতুন করে এই বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, হাসিনার পদত্যাগের যে কাগজপত্র থাকার কথা, সেগুলি নেই। তবে হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তিনি মেনে নিয়েছেন। এবং এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে যদি নির্বাচন হয়, তবে তিনি অংশগ্রহণ করতে চান। এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে যাতে শেখ হাসিনা ফের বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন,তারই চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এমনকি এই বিষয়ে বাংলাদেশের বহু সাংবাদিক বলছে, আওয়ামী লীগ এই বিষয়টার উপর গোপনে কাজ করছে, এবং ভারত ও বিদেশী শক্তির সাহায্য নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। তাতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, এতে কোনও সমস্যা নেই আওয়ামী লীগের। পরবর্তী ৫ বছর পরে ফের আওয়ামী লীগ তৈরি হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারবে। তবে তার জন্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন। যাতে তাদের পক্ষে ক্ষেত্র তৈরি হয়।
তৃতীয়ত, নির্বাচন যদি হয় সেক্ষেত্রে হাসিনা বাইরে থেকেই তাঁর দলের জনপ্রিয় নেতাদের নির্দিষ্ট এলাকায় দাঁড় করাবেন। নির্বাচনে জিততে চাইছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অনেকে বলছেন, বিএনপির মধ্যে অনেক আওয়ামী লীগ ঢুকে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ী রয়েছে, তাদের সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। তাদেরও এই পরিস্থিতিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাতে কয়েকটি আসনে তারা জিততে পারলে, পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ কাজ করতে পারবে।
চচুর্থত, যে কোনও মূল্যে নির্বাচন বানচাল করা। এটা বলছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যাতে তারা অংশগ্রহণ করতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের আশায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।
মোট কথা, আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা হল, নির্বাচন ইনক্লুসিভ হোক। তার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রণ করে, যদি বিরোধী দলেও থাকতে পারে তারা, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার দল। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই শেখ হাসিনা তিনটি আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারলে, সেই নির্বাচিত সরকারকে তারা সরকার হিসাবে মানবে না। আর যদি ইনক্লুসিভ নির্বাচন হয়ে থাকে, তবে তাদের বিরোধী দলেও থাকতে অসুবিধা নেই। তবে যে কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ, তাতে তারা সফল হয় কিনা সেটাই দেখার।












Discussion about this post