দেশবাসীর উদ্দেশে এক অডিও বার্তায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ধৈর্য ধরুন, দিন ফিরবে! সব হিসেব কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনা এবার সেই হিসেব বুঝে নিতে শুরু করেছেন। দীর্ঘকালীন অপেক্ষার পর তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এবার একে একে সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন। বা বলা ভালো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলি তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপতে উদ্যোগী হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ মাস কেবলমাত্র এক পক্ষের বক্তব্যই তুলে ধরা হচ্ছিল গণমাধ্যমগুলিতে। এবার হাসিনা পাল্টা দিতে শুরু করলেন। আর তাতেই ভিত নড়তে শুরু করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিশ্বজোড়া তাঁর খ্যাতি। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেই তিনি প্রথমে একের পর এক জঙ্গিনেতাকে জেল থেকে মুক্তি দিলেন। কট্টর মৌলবাদীদের ছাড়পত্র দিলেন। মব জাস্টিসের নামে বাংলাদেশে একের পর এক হত্যা, গণপিটুনিকে উৎসাহিত করলেন। বাংলাদেশের শিল্প, কলকারখানা সব ধ্বংস করলেন এবং বাংলাদেশের তরুণদের জঙ্গিবাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য করলেন। সেই সঙ্গে ফাঁকতালে নিজের ও তাঁর একাধিক সংস্থার নামে থাকা অসংখ্য ফৌজদারি অপরাধ, আর্থিক তছরূপের মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নিলেন এবং প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা করফাঁকি মকুব করিয়ে নিলেন। আর বাংলাদেশের গণমাধ্যমের উপর খবরদারি করে এই সমস্ত খবর ছাপাতে বাধা দিলেন। অন্যদিকে, একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুরুচিকর প্রচার করে গেলেন। কিন্তু এবার পাশা পাল্টে গিয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানেই হাসিনা একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন। দুটি বিশ্বব্যাপী চলা বার্তা সংস্থায় তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশ হল। ফলে বিশ্বের বহু দেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য ফলাও করে ছাপা হল। যা নিয়ে কার্যত তোলপাড় ভূ-রাজনীতি।
মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সাতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে বাংলাদেশে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী এবং গ্রামীণ শক্তি। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কখন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? এগুলোর কাজই বা কী? সম্পদের পরিমাণই বা কত? শেখ হাসিনা এই প্রশ্নগুলিই তুলে দিচ্ছেন সুচারুভাবে। নানান সময়ে তাঁর অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা কার্যত মুহাম্মদ ইউনূসকে চোর প্রতিপন্ন করে চলেছেন। এবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তিনি সেই পথ নিলেন। একের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির হাল-হাকিকত যেমন তুলে ধরলেন, তেমনই মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্রাজ্যের পর্দাফাঁসও করেছেন। আর তার পরই ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর তার হাতে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, সেটি নিয়ে নানান সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠতে দেখা যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর এক বছর না পেরোতেই মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা যাচ্ছে। সেটাও সুন্দরভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন হাসিনা।
অন্যদিকে রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনিও এমন সব তথ্য ফাঁস করলেন, তাতেও চুল খাঁড়া হওয়ার জোগার ইউনূস সাহেবের। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ছাত্র গণ আন্দোলন নিয়ে কার্যত বোমা ফাটান তিনি। মহিবুলের দাবি, মার্কিন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তাঁকে ‘ডেঞ্জারাস ম্যান’দাবি করে হাসিনার আমলের মন্ত্রী বলেন, ক্লিন্টন পরিবার ও ইউনূস সরকারের মধ্যে গোপন আঁতাত দীর্ঘদিনের। বহু বছর ধরেই তারা সরকার বদল করার চেষ্টা করছিল। আগে বিষয়টা প্রকাশ্যে ছিল না, কিন্তু এনজিও গুলোর ফান্ডিং চলছিল। ওরা বাংলাদেশের সরকার বদলে মরিয়া ছিল। আমেরিকা থেকে আসা বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী। সবমিলিয়ে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে শাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা তো বটেই, তাঁর সরকারের মন্ত্রীরাও এখন একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুখ খুলছেন। ফলে যে ভাষ্য মুহাম্মদ ইউনূস এতদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দিয়ে আসছিলেন একতরফাভাবে, এবার সেটাই ঘুরিয়ে দিতে মরিয়া শেখ হাসিনা। আর তাতে তিনি সফলও হচ্ছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post