আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলির কাছে একটা বড় দিন, আবার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কাছেও নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার দিন। আর সেই দিনকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা বাংলাদেশেই টানটান উত্তেজনা। ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রথম মামলার রায়ের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হবে। আইনজীবী মহলের ধারণা, ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, পরদিন শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে সরকারি অফিস-আদালতে সাপ্তাহিক ছুটি। তাই রবিবার থেকে যে কোনও দিন হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের ধারণা, এই রায় আগে থেকেই ঠিক করা আছে, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই যা বাকি। আর এই সাজাও হবে সর্বোচ্চ পর্য়ায়ের। তাই আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ঢাকা শহর অচল করে দিতে চাইছে। প্রমান করতে চাইছে তাঁদের সাংগঠনিক শক্তি, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তাঁদের জনপ্রিয়তাও। অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। কারণ, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রাস্তায় রাখা হয়েছিল সেই প্রথম থেকেই। তাঁদের হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন আগেই তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি মোকাবিলা করা খুব কঠিন ইউনূস সরকারের কাছে। কিন্তু আরও একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মাথাব্যাথার উদয় হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার শীর্ষ জেনারেলরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। কয়েকজন সররীরে উপস্থিত ছিলেন, আর বাকিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন সূত্র জানা যাচ্ছে, ওই গোপন বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার মধ্যে দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি হল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক। না হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওই নির্বাচনে সহযোগিতা করবে না। অর্থাৎ, বাংলাদেশের যতগুলি রাজনৈতিক দল আছে তাঁদের সকলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার যে পরিকল্পনা চলছে, তাঁদেরও অন্তর্ভূক্তি চাইছেন বাংলাদেশ সেনার শীর্ষ জেনারেলরা। তাই তাঁরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে।
জানা যাচ্ছে, ওই গোপন বৈঠকের কিছু ভিডিও ক্লিপ নিয়ে এক সেনাকর্তা যমুনায় ছুটে যান। প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেই ক্লিপগুলি দেখান। বাংলাদেশ সেনার শীর্ষ জেনারেলদের বক্তব্য শুনে রীতিমতো হতাশ মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে তলব করেন। দীর্ঘ বৈঠকও করেন তাঁরা। তারপরই ঠিক হয়, ৫০ শতাংশকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনার যে কাজ শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়ে দেন, সেনাবাহিনীর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেনাকর্তা ও বাহিনীকে ফের মাঠে নামিয়ে তাঁদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তাতেও বাহিনীর ভিতর অসন্তোষকে দমন করা যাবে কি। তেমন আশা দেখছেন না রাজনৈতিক মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post