এই মুহূর্তে চরম অস্তিত্ব সংকটে মুহাম্মদ ইউনূস। সবকিছুই যেন তাঁর হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করার পর থেকেই সবকিছু যেন পাল্টে গিয়েছে তাঁর আশেপাশে। কয়েকদিন আগেও যারা তাঁর আশেপাশে ভিড় করতেন, তাঁরাই এখন নিজেদের মতো করে ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ ও তাঁদের সহযোগী সংগঠনগুলি ব্যস্ত তাঁদের মতো করে সবকিছু সাজিয়ে তুলতে। অন্যদিকে বিএনপি ব্যস্ত ভোটের ময়দানে তাঁদের প্রার্থী তালিকা তৈরি এবং সহযোগী দলগুলির সঙ্গে আসন রফা নিয়ে আলোচনা করতে। আবার এনসিপির মতো তরুণ তু্র্কিদের দল তাঁদের পার্টনার খুঁজছে ভোটের ময়দানে নামার আগে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যাদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ তাঁরাও এই সময় চরম প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সবমিলিয়ে সবাই ব্যস্ত, আর কেমন যেন একা হয়ে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের বহুচর্চিত ছাত্রনেতারা বলছেন, স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চায় এনসিপি। তাঁরা মুখে বলছেন, এই মুহূর্তে কোনও বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে যেতে চাইছেন না। তাঁদের লক্ষ্য সমমানের কয়েকটি দলকে নিয়ে একটা অনন্য জোট তৈরি করা। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুই বৃহৎ শক্তি বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এই নবীন দলটিকে নিজেদের জোটে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে খবর। পর্দার আড়ালে চলছে নানান খেলা। যেমন জানা যাচ্ছে, গত শুক্রবার রাতে রাজধানীতে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে সেখানে ৮ থেকে ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেই জানা যাচ্ছে। তবে পত্রপাঠ তা নাকচ করে দিয়েছেন এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে প্রথম থেকেই জামাতের ছত্রছায়ায় থাকা এনসিপি এখন জামাতের থেকে অনেকটাই দূরে সরে এসেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই তার প্রমান মিলেছে। তাই ক্ষমতার সমীকরণ নয়, যুগোপযোগী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে টেকসই রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চান বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে পরিচিত তরুণ এই ছাত্র নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, এটা তাঁদের আত্ম উপলব্ধি। এনসিপি নেতারাও বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতার কথা। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা ওয়ার্কার্স পার্টি যেভাবে সাড়া জাগিয়েও হাসিনার দলের সঙ্গে জোট করে মাঝপথেই হারিয়ে গিয়েছিল। গত দেড় দশক আওয়ামী সরকারের প্রশংসায় সীমাবদ্ধ থেকে তাঁরা কার্যত শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ ও গৃহপালিত শক্তি হিসেবেই পরিচিত হয়ে গিয়েছে। এনসিপি চায় না কোনও বড রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে তাঁদেরও সেই হাল হোক। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বলছেন, এর পিছনে রয়েছে সুক্ষ্ণ একটা রাজনৈতিক উপলব্ধি। বিগত দেড় বছরে এনসিপি বুঝেছে তাঁরা এখন ব্রাত্য হয়ে পড়েছে। জামাত তাঁদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপিও নিজেদের স্বার্থে সামান্য কয়েকটি আসন ছেড়ে একটা রফা করতে চাইছে। এটা তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে এখন তাই এক নতুন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘এনসিপি কি সত্যিই একক পথে টিকে থাকতে পারবে? অপরদিকে বিএনপি ও জামাত গণভোট নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ আগামীদিনে ঢাকা নতুন করে উত্তাল হলেও কেউ অবাক হবেন না। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের উত্তান ও বীর দর্পে ফিরে আসার দিকেও নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post