একদিকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে টানটান উত্তেজনা। অন্যদিকে পরপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘনঘটা। সোমবার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানী ঢাকা জুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জানা যাচ্ছে সোমবার সারাদিনে অন্তত ১২টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ওই ককটেল বিস্ফোরণের স্থান নির্বাচন। মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যেমন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, তেমনই মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেও ঘটেছে। আবার রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ের সামনে ২টি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটিতে বিস্ফোরণ হয় বলে জানা গিয়েছে। তেমনই বাংলাদেশ বেতার ভবন-সহ দুটি গির্জার সামনেও ককটেল বোমা ফাটানো হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত দেড় বছরে এ ধরণের ককটেল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত মামুলি হলেও এক সাথে একই দিনে এতগুলি ঘটনা বেশ নজিরবিহীন। তাও আবার বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় এই ঘটনা ঘটল। এটা নেহাতই কাকতালীয় নয়।
দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অনেক কিছুই প্রমান করে। যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার দাবি করেছেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১৭ টি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর বক্তব্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ১-১১ নভেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে রাজধানীতে ৯ টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এসব ঘটনায় গত দুই দিনে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যে কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি আরও বলেন, ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই এবং সরকার কোনও ধরনের সন্ত্রাস সহ্য করবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার কথা জানালেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে একের পর এক এত ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত করা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মণ্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একযোগে সমস্ত দায় আওয়ামী লীগের উপরেই দিয়ে দায় সারলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিগত দেড় বছরে অসংখ্যা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা, ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। যাকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্ট বিরোধী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মত দিয়ে এসেছে। ইউনূসের সরকার ও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে বরং হাট গুটিয়ে বসে ছিল। কিন্তু যেই পাল্টা ঘটনা ঘটতে শুরু করল, তখনই নড়েচড়ে বসলো সরকার ও পুলিশ। ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হতেই তা হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। যে প্রতিষ্ঠানগুলি বিগত দেড় বছরে নানা দুর্নীতি করে গেল, তার জন্য কোনও ক্ষোভ হতে পারে না বলেই মত দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগের পাল্টা মারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগ বুঝে গিয়েছে, এই উপদেষ্টাদের এনজিওদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। আর এটাকেই উস্কে দিতে চাইছে তাঁরা সুকৌশলে।












Discussion about this post