সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লায় কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। আহত প্রায় ৩০ জন। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গি নাশকতারই গন্ধ পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত করছে এনআইএ। দিল্লিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় পাকিস্তানি যোগ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশী যোগের কথা আলোচনাতেই ওঠেনি। এবং এই নিয়ে ভারত সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক ধাপ এগিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এ তো ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনির মত পরিস্থিতি। আগ বাড়িয়ে কেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই মন্তব্য করলেন?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বলেন, দিল্লিতে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশকে জড়ানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লায় গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গি হামলায় দাবি করে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশকে জড়িয়ে প্রচারিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সুযোগ পেলেই ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের উপর দোষ চাপায়। লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন মনগড়া ও দায়সারা প্রতিবেদন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। বাংলাদেশ সব সময় জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করে আসছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যম ভারতের সম্পর্কে নানা মন্তব্য করে। এমনকি এমন কিছু বক্তব্য রাখে, যেখানে ভারতের সঙ্গে কোনও সংযোগ নেই। তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতর সরকারের তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয় না। তাহলে এ ক্ষেত্রে কেন বাংলাদেশের সরকারের তরফে এমন প্রতিক্রিয়া আসছে? যেখানে এই বিস্ফোরণ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি ভারত সরকার। অন্যদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জঙ্গি ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে গোটা বিশ্ব দেখেছে, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরপর জঙ্গিদের কিভাবে ছেড়ে দিয়েছে। এমনকি যে সমস্ত জঙ্গি এখনও জেলেবন্দি রয়েছে, তাদের কিভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তারই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বহু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছেন। এমনকি পরিসংখ্যান বলছে, এই গত কয়েক মাসে অস্বাভাবিক হারে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে বাংলাদেশে। যেটার লাগাম টানার চেষ্টায় করেনি বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার। উল্টে পাকিস্তানের সঙ্গে অবাধ বন্ধুত্ব বাড়িয়ে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণের জমি তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিষয়টি কিছু মাস আগেই পাকিস্তনের এক সেনাকর্তায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে কিছুই বলেনি বাংলাদেশ এক্ষেত্রে জড়িত রয়েছে কিনা। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া সূত্রগুলি থেকে তদন্তকারীরা মনে করছেন যে সোমবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের হাতে ফরিদাবাদের সন্ত্রাসবাদী মডিউলটি ধরা পড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল ডঃ উমর নবী ভাট। যার হাতে বিস্ফোরণে যুক্ত সাদা হুন্ডাই আই ২০ গাড়িটির স্টিয়ারিং ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। এমনকি ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে, এর রেই একটি অসম্পূর্ণ IED অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল আতঙ্কিত উমর। পথে কোনও ভাবে সেটি বিস্ফোরিত হয়। সম্ভবত, ওই গাড়িতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ যোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এমন মন্তব্য করেন। যা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post