বাংলাদেশে মব কালচার যে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে বহিঃ বিশ্বে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কয়েক মাসে মব কালচার বহুগুণে বেড়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু সেইভাবে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু এবার দেখা গেল পুলিশের লক্ষ্যনীয় পদক্ষেপ। মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল বাংলাদেশ পুলিশ। হঠাৎ কেন পুলিশের বিরাট পরিবর্তন? এমন প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
অনেকে বলছেন, পুলিশ এতদিন পর মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিল। জানা যায়, হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রলীগ এক নেতাকে। থানায় দিতে গিয়ে তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর রেখে দেওয়া হয়। এরপর তাদের থানায় দিতে গেলে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই নেতার বাবার করা মামলায় তিনি জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলা জানা গিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম ফয়সাল মাহমুদ। তিনি কুমিল্লার মনহরগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি। মঙ্গলবার নগরের গোলপাহাড় এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাঁচলাইশ থানা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতার ফয়সাল মাহমুদ গত চার বছর ধরে নগরীর রোড এলাকায় বসবাস করে দলের বিভিন্ন কাজ করে আসছিলেন। পাঁচলাইশ থানার একটি মামলায় তাকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমনকি নয় নভেম্বর এলাকায় আওয়ামীলীগের মিছিলে ছিলেন বলে খবর। সূত্রের খবর, কিছু যুবক মব তৈরি করে নগরীর পাঁচলাইশ পার্ক ভিউ হাসপাতাল থেকে ফয়সালকে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়। এমনকি তাকে আটক করে কুড়ি লক্ষ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। এরপরই তার বাবা জসিম উদ্দিনের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ। জানা যায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম, আশরাফুল আমিন, মোহাম্মদ তারিক আসিফ, এবং শাহাদাত হোসেন শান্ত। জানা যায়, ফয়সাল মাহমুদ গত চার বছর ধরে চট্টগ্রামের একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করে আসছেন। রবিবার সন্ধ্যে তিনি পার্ক ভিউ হাসপাতালে ডাক্তার ভিজিটে যান। এরপরই এই ঘটনা গটে।
তবে এক্ষেত্রে পুলিশের অ্যাকশন নিয়ে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে এই অ্যাকশন কয়েক মাস আগে তৈরি হলে, বাংলাদেশ স্থিতিশীল জায়গায় থাকত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে মব কালচার অত্যাধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এর জেরে বহু মানুষকে হেনস্থা হতে হয়েছে বিনা কারণে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কিন্তু এতদিন পর পুলিশের পদক্ষেপ নিসন্দেহে প্রশংসনীয়। বলছেন বিশেজ্ঞরা। তবে এই পরিবেশটা কি আদেও গোটা দেশ জুড়ে বজায় থাকবে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post