আওয়ামী লীগের ডাকে বাংলাদেশে আজ চলছে লকডাউন। জনবহুল ঢাকাও আজ পরিণত হয়েছে শ্মশানে। আর তারই মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফের এক ভয়ংকর বার্তা পাঠালেন ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলকে। একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ যেন “পাকিস্তানের মতো হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার ফাঁদে না পড়ে”, তা নিশ্চিত করতে ভারতের ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অপরিহার্য।ভারত শুধু বাংলাদেশের প্রতিবেশী নয়, বরং ‘অটল বন্ধু’ ও ‘গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রধান অংশীদার’। হাসিনা বার্তায় বলেন ‘আমরা শুধু চাই, ভারত যেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সমর্থন করে-যাতে তারা নিজেদের সরকার নিজেরাই বেছে নিতে পারে। ভারতের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাবে’। যত জল্পনা শুরু হয় এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কারণ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে আর সেই জায়গায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাহায্যের বার্তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। বিশেষ করে হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। যা একেবারেই তলানিতে পৌঁছে গেছে হাসিনা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব ‘অদক্ষ অভিজ্ঞতাহীন এবং বিপজ্জনকভাবে চরমপন্থীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে’। তাঁর কথায়, ‘ইউনূসের ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্যা আমার কারণে নয়, বরং ওর নিজের নীতিগত ব্যর্থতার ফল। ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে পারেনি, বরং সরকার থেকেই ভারতবিরোধী মনোভাব উস্কে দেওয়া হচ্ছে। এটা এমন এক নেতৃত্বের উদাহরণ, যে বুঝতেই পারছে না, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের বন্ধুত্ব কতটা জরুরি’। শুধু এখানেই শেষ করেননি পাকিস্তানের সাথে ইউনূসের মাখামাখি সেই বিষয়েও হাসিনা তির্যকপূর্ণ মন্তব্য করেন। এমনকি 1971 এ পূর্ব পাকিস্তান থেকে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যম দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম তা যে ইউনূস ভুলেছে সে কথাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি হাসিনা।
ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরও ভারত তাঁর প্রতি যে কূটনৈতিক সহানুভূতি দেখিয়েছে, তার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমি ভারতীয় জনগণের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে আশ্রয় ও সম্মান দিয়েছেন। ভারত কখনও আমাকে বোঝা হিসেবে দেখেনি, বরং তারা জানে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা মানেই আঞ্চলিক শান্তি’। আজ এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন যে সফলতা পেয়েছে তা শুধুমাত্র ইউনূসের অত্যাচারে বাংলাদেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারই বহিঃপ্রকাশ বলছেন হাসিনা।
তাঁর কথায় দিল্লির নীতিগত অগ্রাধিকার সবসময়ই একটি বৈধ, স্থিতিশীল এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এমনকি তিনি এ ও জানান, আওয়ামী লীগ আজও বাংলাদেশের সমাজের গভীরে প্রোথিত, এই দলকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই কারণ কোটি কোটি সাধারণ মানুষ আজও আওয়ামী লীগের পাশে রয়েছে বলে মনে প্রানে বিশ্বাস করেন হাসিনা।এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ক্রমেই এক বিপজ্জনক মোড়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মহম্মদ ইউনূস আসলে এক লুটেরা নেতা। যার সরকারের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হিযবুত তাহরীরের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে। তিনি আসলে জঙ্গিবাদী নেতা বলেও আখ্যা করেছেন হাসিনা।তিনি ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকেও আহ্বান জানান, যেন তারা বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখে, এবং একটি মুক্ত সুষ্ঠু স্বতন্ত্র রক্ষাকারী অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। হাসিনা মনে করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুস্থ করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে দিতে হবে। সেটিই একমাত্র পথ।হাসিনা পরিষ্কারভাবে মনে করিয়ে দিতে চান ভারত বাংলাদেশ তার সময় যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক বজায় ছিল যার মাধ্যম দিয়ে দুটি দেশ তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল ইউনূসের চক্রান্তে আজ তা তলানিতে পৌঁছেছে।হাসিনা পরিষ্কারভাবে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়, এটি একটি ইতিহাস, রক্ত ও বিশ্বাসের সম্পর্ক। তাঁর ভাষায়, ‘এই দুই দেশের বন্ধন হৃদয়ের আত্মার বন্ধন। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি সংকটে ভারত আমাদের পাশে থেকেছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তি এত গভীর যে, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক পরিবর্তন সেটিকে ভাঙতে পারবে না’। এমনকি তিনি বলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের ভূমিকা এখন শুধু বন্ধুত্বের প্রশ্ন নয়, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি নৈতিক দায়িত্ব।
একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা রন্ধে রন্ধে ভারতের সাহায্য যে বাংলাদেশের কতটা প্রয়োজন তার প্রমাণ মেলে একইভাবে বর্তমান বাংলাদেশ শাসনে ক্ষমতার লোভী মৌলবাদে বিশ্বাসী মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতার প্রথমে সেই ভারতের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন পথে নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে যার ফলে আজ পরম বন্ধু ভারত বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে। অস্থির বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এখন সেই বন্ধুরূপী ভারতকেই পাশে দরকার বাংলাদেশের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post