‘ও দয়াল বিচার কর/ দাওনা তাঁরে ফাঁসি/ আমায় গুম করেছে, /খুন করেছে/ ও বাঁশি’।
এই প্রতিবেদন যেদিন লেখা হচ্ছে সেদিন পদ্মাপারের এক ক্যাঙারু কোর্ট মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল এবং পুলিশের প্রাক্তন ডিজি (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন – এই তিন আসামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রায় ঘোষণার দিনক্ষণ স্থির করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিল আগামী সোমবার তারা এই তিন অপরাধীর শাস্তির বিধান জানাবে। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আল মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। হাসিনা বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘পলাতক’। আর পুলিশের প্রাক্তন ডিজি (আইজিপি) রাজসাক্ষী হওয়ায় তিনি এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার শুনানি শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর। শুনানি শেষ হয় অ্যাটর্নি জেনারেল মো আসাদুজ্জামান খানের সওয়াল জবাবের মধ্যদিয়ে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষ ট্রাইব্যুনাল বলে, আগামী ১৩ নভেম্বর তারা জানিয়ে দেবে কবে এই দুইয়ের সাজা ঘোষণা হবে। এই মামলায় হাসিনা এবংআসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের তরফে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে। আর পুলিশের প্রাক্ত ডিজির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকার আদালতের ওপর ন্যস্ত করেছে। কারণ, তিনি যেহেতু রাজসাক্ষী হয়েছেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আসামীদের নির্দোষ দাবি করে তাদের খালাস চেয়েছেন। রাজসাক্ষী প্রাক্তন পুলিশকর্তারও খালাস দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এজলাসে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তথা চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম, প্রসিকিউটর বিএম সুলতাম মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
একই দিনে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ডাকা হয়েছে লকডাউন। কর্মসূচি শুরু হয় ১০ নভেম্বর থেকে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই রাজনৈতিক দলে প্রস্তাবিত কর্মসূচি ভেস্তে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। যদিও সেটা খাতা-কলমে কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ রয়েছে। কারণ, তাদের এই কর্মসূচি অনেক আগেই ঘোষণা করেছিল। ফলে, সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে আম বাংলাদেশি, অর্থাৎ খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে। বাংলাদেশ মানেই আওয়ামী লীগ এবং হাসিনা – এটা একটা মিথে পরিণত হয়েছে। তাই, হাসিনা এবং তাঁর দলের পাশে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
বলা হচ্ছে গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে ছাত্র-যুবদের পাশে নাগরিক সমাজের একাংশ সামিল হয়েছিল। তারা চেয়েছিল পরিবর্তন। তারা এবং সেনার দৌলতে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন ‘নোবেল ম্যান’ ইউনূস। কিন্তু গত ১৪ মাসে তিনি পদে পদে প্রমাণ করেছেন তাঁর ব্যর্থতা। তাই বাংলাদেশের মানুষও এখন পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করতে শুরু করেছে। সরাসরি না হলেও পরক্ষোভাবে তারা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত লকডাউন কর্মসূচিকে সমর্থন করছে। আর তাতেই ভয় পেয়েছেন যমুনাভবনের বাসিন্দা ড. মহম্মদ ইউনূস। হাসিনার দলের এই কর্মসূচি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আলোচনা বা তর্ক হতেই পারে। কিন্তু যা নিয়ে কোনও তর্ক হবে না, সেটি হল এই লকডাউন কর্মসূচি কিন্তু বিরোধীদের কাছেও আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। ফলে, আওয়ামী লীগ কিন্তু অনেকটাই মাইলেজ পেয়ে গিয়েছে।












Discussion about this post