‘এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার। ও কি সূর্য না কি স্বপনের চিতা, ও কি পাখির কুজন না কি হাহাকার। ’
জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া এই গানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর সার্বিক বাংলাদেশের চিত্রের। এদিন তামাম দেশবাসী, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরাও আছেন, দেখলেন এক আশ্চর্য সূর্য। তারাও হয়তো নিজেরাই নিজেদের এই প্রশ্ন করছেন – ও কি সূর্য না কি স্বপনের চিতা। পাখিরা গান গেয়েছে ঠিক। কিন্তু প্রতিদিন ভোরের তাদের গলায় গাওয়া কুহু রবের সঙ্গে এদিনের কুহু রবের বিস্তর অমিল।
এই চিত্র একদিনে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে তিলে তিলে, গত ১৪ মাস ধরে। এ এক ব্যর্থ প্রশাসকের বিরল চিত্র নির্মাণ,যা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে প্রশাসক মহম্মদ ইউনূসের নাম। বাংলাদেশবাসী একটি পরিবর্তন চেয়েছিল ঠিক। সেই পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় গত জুলাই-অগাস্টে। পথে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের আশা ছিল হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ এক ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হবে। দেশ সব দিক থেকেই সাফল্য লাভ করবে। জমিতে হবে নতুন ধান। অর্থনীতি ঘোড়ার মতো টগবগিয়ে ছুটবে। দেশকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবেন নোবেল ম্যান ইউনূস।
তাদের আশা, স্বপ্ন পদ্মার জলে ভেসে গিয়েছে। দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে অর্থনীতি। চারিদিকে নৈরাজ্য। ‘চমকি জাগি নিশীথ শয়নে। ’ সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশবাসী গত ১৪ মাস ধরে রাতে চমকে উঠছেন। দিন-রাত কাটছে এক আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে। তারা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। পাশে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে তাদের লকডাউন কর্মসূচি। আর আওয়ামী লীগকে কালিমালিপ্ত করতে একজোট হয়েছে বিএনপি, জামাত, এনসিপি। তদারকি সরকার আর মৌলবাদী শক্তি তো আছেই।
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই অশুভ শক্তিরা এমন কিছু কাজ করবে যার দায় গিয়ে পড়বে আওয়ামী লীগের ওপর। দেশজুড়ে তারা তাণ্ডব চালাবে। বাসে আগুন দেবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাবে। হামলা চালাবে বেসামরিক এলাকা যেমন হাসপাতাল, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বৃদ্ধাশ্রম, স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকী মাদ্রাসাতেও। । টার্গেট করা হবে সংখ্যালঘুদের প্রার্থনা কেন্দ্র। তাদের নজরে ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক। সূত্রের খবর এই অপশক্তির মাথারা যমুনায় বেশ কয়েকবার বৈঠক করে। বৈঠক হয়েছে পুলিশের সদর দফতরে। তারা তাদের আন্দোলনের নীল নকশা সরকারের ঘরে জমা দিয়েছে। ইতিমধ্যে তদারকি সরকার জেলে থাকা কুখ্যাত জঙ্গিদের ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে স্বর্গোদ্যান। সে দেশের একাধিক গণমাধ্যম থেকে দেশবাসীকে বলা হয়েছে, তারা যেন বিশেষ প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে না যান।
ঢাকার বাইরে ৭টি জেলায় বাসে, ট্রাকে, পিকআপভ্যানে, রেলপথে ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৭টি জেলায় আগুন ধরিয়ে বা গাছ ফেলে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধসহ ৪টি জেলায় যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া শরীয়তপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে নাশকতার চেষ্টা ও নাশকতায় জড়িত অভিযোগে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বাইরের ১১টি জেলা থেকে এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। বেলা যত গড়াবে হিংসাত্মক ঘটনা আরও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post