‘’হীরক রাজার দেশে’র এই দৃশ্যের কথা মনে পড়ে – বিজ্ঞানী রাজার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র।’
রাজা বুঝতে না পেরে বলেন ‘হেঁয়ালি না করে খুলে বল।’
বিজ্ঞানী তখন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ‘এ এমন কল, যাতে রাজকার্য হয়ে যায় জল। এর সাহায্যে রাজভক্তি প্রকাশে নারাজ যে, তাকে করে তোলা একনিষ্ঠ রাজভক্ত, মোটে নয় শক্ত।’
লাল কেল্লায় বিস্ফোরণের সঙ্গে যার নাম উঠে আসছে সে ওই হীরক রাজার বিজ্ঞানীর মতো বেশ কয়েকজনের মগজ ধোলাই করেছেন। দিল্লি পুলিশ এই ‘বিজ্ঞানী’কে গ্রেফতার করেছে। বিজ্ঞানী না বলে হাফ বিজ্ঞানী বলা যেতে পারে। ধৃত হাফ বিজ্ঞানীর নাম ইমাম ইরফান আহমেদ। গোয়েন্দারা মনে করছে, সেই একটি নেটওয়ার্কের মোটিভেটর। ফরিদাবাদ মডিউল সংক্রান্ত ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম এই ইরফান আহমেদ।
গোয়েন্দাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগে এই ইরফান আহমেদ শ্রীনগরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন ওই হাসপাতালের প্যারামেডিকেল স্টাফ। চাকরি করার সময় তিনি অবসরে নওগার একটি মসজিদে যেতেন। সেখানে গিয়ে ছাত্র এবং উপাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ভিডিও কলে তাঁদের ক্লাস নিতেন। তাঁর ক্লাসের বিষয়বস্তু ছিল মেডিক্যালের ছাত্রদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা। তাদের তিনি ওই ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র’-য়ের সাহায্যে করতেন মগজ ধোলাই।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই মৌলবীর সঙ্গে জৈশের মাথাদের ভালো যোগাযোগ ছিল। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং তুরস্কের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে তিনি গোপনে যোগাযোগ রাখতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এই মৌলবী ভিডিও কলে আফগানিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁর অনুপ্রেরণা শক্তি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। হরিয়ানাতে ছিল তাঁর এক হ্যান্ডলার। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম মৌলবী হাফিজ মহম্মদ ইশতিয়ার। এই দুইকে পুলিশ ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে।
হাফ বিজ্ঞানী ইরফান আহমেদের প্রিয় ছাত্র ছিল দুই চিকিৎসক। একজনের নাম মুজাম্মিল শাকিন। অপরজনের নাম ডা. মোহাম্মদ উমর। লাগাতার ভারত-বিদ্বেষী কথা বলে তাদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। এই দুই ডাক্তার মৌলবীর ‘রাজকার্য’ পালনের নির্দেশিকা কার্যকর করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। গোয়েন্দাকর্তাদের মতে, ইরফান আহমেদের লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে ভারত-বিরোধী মন্ত্রী দীক্ষিত করা। মৌলবী বেছে নেন চিকিৎসক সমাজকে। কারণ, তিনি নিশ্চিত ছিলেন, এই চিকিৎসকেরা ভারত-বিরোধী মন্ত্রে দীক্ষিত হলেও পুলিশ বা গোয়েন্দারা তাদের সন্দেহ করতে পারবে না। এরা কাজ করবে সবার অলক্ষে। যাদের কাজ জীবনকে বাঁচানো, তাদেরকেই জীবন নাশের কাজে মূল অস্ত্র হিসেবে তৈরি করেছিলেন পাকিস্তানের এই দালাল। যদিও এখন সে পুলিশে জালে। দিল্লি বিস্ফোরণে যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির চালক ছিলেন ডা. মোহাম্মদ উমর। এই নাশতাকতাগোষ্ঠীর মাথা মুজাম্মিল শাকিনকে সবার আগে পুলিশ গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মুজাম্মিল ও মোহম্মদ উমর বহুদিন ধরে এই মৌলবীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। মন দিয়ে তাঁর ভারত-বিরোধী মন্ত্র শুনতেন। সেই মন্ত্র তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল জীবনমন্ত্রী। ডাক্তারের পরিচয় জলাজঞ্জলি দিয়ে তারা পরিণত হলেন কসাইয়ে। লালকেল্লার বিস্ফোরণ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার সন্ত্রাসের সুতো সেই পাকিস্তানে।












Discussion about this post