লালকেল্লার বিস্ফেরণ-কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সাউথব্লক জানিয়ে দিল, দিল্লির বিস্ফোরণ আসলে ঘৃণ্য সন্ত্রাসবাদী হামলা। যার শিকড় রয়েছে বাংলাদেশে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহ পুলিশ দুইজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আগে বাংলাদেশ হয়ে জঙ্গিরা সীমান্তে কড়া নজর এড়িয়ে ভারত ভূ-খণ্ডে ঢুকে পড়ত। এখন একপ্রকার সরকারি মদতেই তারা পদ্মাপারে বসে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা চালাতে বাংলাদেশের তদারকি সরকার উৎসাহ দিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করা যাবে।
প্রথমত, ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ। বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিতরে তো আইএসআই তাদের দফতর খুলে বসেছে। আইএসআই কী করে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। ইউনূস এবং তাঁর সরকারের সমর্থন না পেলে তারা যে হাইকমিশনের মধ্যে দফতর খুলতে পারতো না সেটা বলাই বাহুল্য। ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অতীতে সন্ত্রাসী হামলায় আইএসআইয়ের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের মডিউল কাজ করেছে। আর লালকেল্লায় ঘটে যাওয়া হামলার সঙ্গে যে বাংলাদেশ জড়িত তা প্রমাণ করতে এক জঙ্গি নেতার বয়ান এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। গত ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের খইরপুর তামেওয়ালিতে লেট একটি সমাবেশের আয়োজন করে। প্রধান বক্তা ছিলেন সইফুল্লা সইফ। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে এই লেট নেতাকে বলতে শোনা যায়, তাদের হাফিজ সইদ স্যর চুপচাপ বসে নেই। কীভাবে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজ করা যায়, সেই পরিকল্পনায় তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈবা রীতিমতো সক্রিয় রয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের যোগ্য জবাব ভারতকে দেওয়া হবে। ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সইদ তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তাদের কাজ হবে সে দেশের তরুণদের মগজ ধোলাই করে জিহাদিক কাজে উদ্বুব্ধ করা। আর ওই লস্কর নেতা আরও বলেন, ‘আমেরিকা এখন আমাদের পাশে রয়েছে। আর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। ’
সম্প্রতি ভারতের সেনাগোয়েন্দাদের একটি দল বাংলাদেশ গিয়েছিল। তাঁরা সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁর হাতে তুলে দেন গোছাখানেক স্যাটেলাইট ইমেজ। সেসব ছবি সীমান্তে গজিয়ে ওঠা জঙ্গি শিবিরের। ঢাকাকে তারা কাটাকাটা কথায় জানিয়ে দেন, সীমান্তে গজিয়ে ওঠা ওই সব জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে ফেলতে হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মিত্রতা যে কী পর্যায়ে গিয়েছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। হাসিনা আমলে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল সাপ-বেজির। আর সেই সম্পর্ক হয়ে উঠেছে আম- ও দুধ-কলার। দুই দেশের মন্ত্রীরা একে অপরের দেশ সফর করছেন। দুই বাহিনীর মধ্যে হয়েছে বাহিনী সংক্রান্ত তথ্যের আদান-প্রদান। তাদের এই সম্পর্কি এখন ‘ওপেন সিক্রেট।’
আর যেটা সব থেকে বেশি চোখে লাগছে, এত বড়ো একটা হামলা হত। এতজনের মৃত্যু হল। তদারকি সরকারের তরফ থেকে ভদ্রতা করে শোকপ্রকাশটুকু করা হয়নি। করলে কিছুটা হলেও ক্ষতে প্রলেপ লাগত। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক এখন ততসুমধুর নয়। তারপরেও কিন্তু ওয়াশিংটন থেকে এসেছে সমবেদনা। সুতরাং, এটা ধরে নিতে অসুবিধে নেই, যে দিল্লির বুকে রক্তের হোলিতে খুশি হয়েছেন ইউনূস এবং তাঁর চ্যালাচ্যামুন্ডারা।












Discussion about this post