লকডাউনে রীতিমতো তপ্ত বাংলাদেশ। নানা প্রান্ত থেকে এসেছে ধড়পাকড়, গ্রেফতারের খবর। নাশকতার চেষ্টা ও ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ এবং ওই দলের সহযোগী সংগঠনের ৪৩জন সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। (ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে পাওয়া খবর)। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম এই গ্রেফতারের খবর দিতে গিয়ে বলেন, ‘গত কয়েকদিনে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এই ৪৩ জনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।’ অভিযান চলেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে। সেখান থেকে অস্ত্রসমেত পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বাঁশখালি থানার নতুন বাজার এলাকা থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হলেন আবু নছর চৌধুরী (৪৪), আব্দুল কাদের (৪০), মো. জমির আহমদ (৫৫), মো. জিয়াউর রহমান (৫০) এবং মো. সহেল (২১)। এরা সকলেই বাঁশখালি জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না বা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের সঙ্গে এরা কোনওভাবে জড়িত কি না, সে বিষয়ে অবশ্য পুলিশের তরফ থেকে কিছু বলা হয়নি। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানিয়েছেন, ‘গোয়েন্দা দফতরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চলে।’
অগ্নিসংযোগের খবর এসেছে রাজধানী গুলিস্তানের শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে দুপুর একটা নাগাদ। প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, দলের লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১০ থেকে ১৫ জন সমর্থক বসেছিলেন। সেই অবস্থান চলাকালীন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। চোখের সামনে দলের দফতর পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে তারা জল দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। নিয়ন্ত্রণে আসার পরও আবারও ওই ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গণপরিবহন চলছে। তবে অন্যান্য দিনের মতো বাসে তেমন যাত্রী নেই। ব্যক্তিগত গাড়িও খুব একটা চোখে পড়েনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও হাজিরার সংখ্যা খুব কম।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বানচাল করতে এবং গণভোট সহ পাঁচদফা দাবিতে বৃহস্পতিবার পথে নামে জামায়াত সহ আট দল এবং এনসিপি। বিএনপিকে অবশ্য এদিনে দেখা যায়নি। তবে দলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজন পড়লে তারা রাস্তায় নামবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে বাড়তি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। যমুনায় কার্যত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকারের তরফ থেকে কম চেষ্টা চলেনি। পাঠ্যবই থেকে মুজিব এবং হাসিনার লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাম। এমনকী রাষ্ট্রপতি ভবন থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর ছবি। বাংলাদেশ এখন যে নতুন নোট হাতে হাতে ঘোরাঘুরি করছে, সেই নোটে মুজিবের ছবি নেই। কিন্তু তারপরেও কিন্তু আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বলা যেতে পারে, গত ১৪ মাস ধরে তারা মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেছে। এখন যে প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে, তা হল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কী রায় দেবে? ফাঁসি না যাবজ্জীবন? রায় দিলেও সেটা তারা কার্যকর করবে কীভাবে? না হাসিনা বাংলাদেশে আছে, না তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post