আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে তপ্ত ঢাকা। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে তাদের কর্মসূচি। আর বৃহস্পতিবার তারা লকডাউনের ডাক দিয়েছে। সরকারে পালাবদলের পর থেকে হাসিনার দলের ওপর নেমে আসে প্রশাসনের খাঁড়া। দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরেও তাদের দমিয়ে রাখা যায়নি। তার নজির বিশ্ব দেখেছে। দলের তরফ থেকে ইউনূস সরকারকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে তাদের কোনওভাবেই দাবায়ে রাখতে পারবা না। কারণ, তারা মুজিবের অনুগামী।
এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা নিউজ বাংলা যাচাই করেনি)। সেই ভিডিতে সেনার পোশাকে একজনকে দেখা গিয়েছে । সেই সেনাসদস্যের মুখ অবশ্য দেখা যাচ্ছে না। তিনি হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার শপথ নিচ্ছেন। হাসিনাকে ফেরাতে তিনি বদ্ধপরিকর। তার জন্য জীবন বলি দিতেও প্রস্তুত। ওই সেনাসদস্য বলছেন, ‘বিশ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন শপথ করে বলেছিলাম এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। আজ আবার শপথ করে বলতেসি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমার জীবন আমি উৎসর্গ করব। ’
আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে বানচাল করতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখে প্রশাসন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার দলের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ গুন্ডাদমন বাহিনী। গত ১০ নভেম্বর, সোমবার থেকে তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। থাকবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে একটি সূত্র বলছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি দেখে তাদের হয়তো আরও কিছুন রাস্তায় রেখে দেওয়া হবে। সরকারের তরফ থেকে বাহিনীকে পথে নামার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পাওয়া খবরে তাদের দেখা যায়নি। উলটে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। বাংলাদেশে এত পুলিশ আছে নাকি ?
না নেই। এরা আসলে তদারকি সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার তৈরি ‘ডন কোম্পানির’ সদস্য। তাদের পরনে বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক। বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা প্রায় নয় হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। ইউনিটকে আটটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। সেক্টরগুলি হল রামনা, মোতিঝিল, ওয়ারি, লালবাগ, তেজগাঁও, গুলশন, মীরপুর এবং উত্তরায়। সূত্রের খবর, তাদের সোমবার রাতে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে মিশে তারা কাজ করছে। রয়েছে ৪৯টি থানা এলাকায়। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, আসিফ এই বাহিনী তৈরির জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনে এই সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে এই মিলিশিয়া বাহিনী যে খুব একটা কাজে এসেছে, তা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছে না। তবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে দলের কর্মীসমর্থকদের সতর্ক করতে গিয়ে বলা হয়েছে, জামায়াত, এনসিপি, বিএনপি এবং বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি একজোট হয়েছে। তারা দেশের নানা প্রান্তে নাশকতামূলক কাজকর্ম করে তাদের (আওয়ামী লীগকে) কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করবে। চেষ্টা করবে আন্তর্জাতিকমহলে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার।
এদিকে, বৃহস্পতিবারের একটি খবরে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করলেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করা হয়। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে আদেশের বিষয়বস্তু ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post