বহু জল্পনার পর সম্ভবত বাংলাদেশে তত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে। ২০ নভেম্বর আদালতের রায় ঘোষণা। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপের বিরুদ্ধে রিভিওর রায় দেওয়ার জন্য ২০ নভেম্বর তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সেইমতো এখন প্রশ্ন, যদি তত্বাবধায়ক সরকার ফেরে, তবে এই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কি হবে? নাকি এই অন্তর্বর্তী সরকারই তত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে ফিরে আসবে? আদেও কি মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় নেবেন? কি বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, চলুন আলোচনা করা যাক।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছিল। ফের সেটা আদালতের নির্দেশে সংবিধানে সংযোজিত হচ্ছে। সেটাই মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও আদালতের রায় ঘোষিত হয়নি। জানা যাচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা যে প্রবর্তক করা হয়েছিল, সেই ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় জানা যাবে ২০শে নভেম্বর। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই তারিখ ঠিক করেছে। আগামী মঙ্গলবার রায় জানা যাবে। জানা যায়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া এক রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালে ১০ই মে প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এ বি এম খায়রুল হক।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হওয়ার নিয়ম ছিল, তার প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের শেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তাহলে প্রধান হতে পারেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। কিন্তু তিনি এখন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অর্থাৎ তাঁকে প্রধান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। জুলাই সনদে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে কোন কোন অপশনে বাংলাদেশে নাগরিকদের মধ্যে থেকে খুঁজে বের করতে হবে। তারমধ্যে বিরোধী দলনেত্রী, স্পিকার… এমন পাঁচ সদস্যের দল ঠিক করবেন, কারা থাকতে পারেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে। মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান হওয়ার অপশেন নেই। যদিও বিএনপি জানিয়েছে, এই সরকারই যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে থাকে। গত বছর অ্যাটনি জেনারেল মন্তব্য করেছিলেন যে, এই সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। তাতে কোনও সমস্যা নেই।
তবে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, একমাত্র বর্তমান প্রধান বিচারপতি রিফাত আহমেদ যদি পদত্যাগ করে থাকেন, তবে তাঁর প্রধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন এই শুনানির মাঝেই বিএনপির আইনজীবী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংবিধানে ফিরলেও এটা পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে এলেও বড় ধরণের একটি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে এলে অন্তবর্তী সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছিল বলেই অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। ফলে এখন দেখার, ২০ নভেম্বর আদালত রায় ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এত সহজে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার বিদায় নেবে না। অর্থাৎ ফের কোনও এক বড় ধরণের নাটকের সম্মুখীন হতে চলেছে বাংলাদেশ।












Discussion about this post