প্রতিবেদন শুরু করা যাক কয়েকটি তথ্যের সাহায্যে।
ভারতের এই মুহূর্তে মোট রিজার্ভের পরিমাণ (অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত) ৭০২. ২৮ বিলিয়ন ডলার। বৈদশিক মুদ্রা সম্পদ ৫৭০. ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জমা রাখা সোনার মূল্য ৮৮০ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরের হিসেবে অনুযায়ী এর মূল্য ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট বলছে ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৬ শতাংশ। আর এখন সেটা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই)।০.৪৮ %চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭.২ %। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে ভারত ২০৩০-য়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্র ধার্য করেছিল, সেটা পাঁচ বছর আগেই পূরণ করে ফেলেছে। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট স্থিতিশীল। খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হারে অস্বাভাবিক হারে পতন ঘটেছে। প্রশ্ন হল, এটা কী করে সম্ভব হল?
সরসরি প্রতিবেদনে যাওয়ার আগে করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করতে হয়। গোটা বিশ্ব সাক্ষী ছিল এক ভয়াবহ মারণ রোগের। বিশ্বের প্রথম সারির দেশের অর্থনীতির ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল এই ভয়ঙ্কর ব্যধি। কিন্তু ভারতের অর্থনীতিতে করোনা বিষদাঁতের কামড় বসাতে পারেনি। বহু দেশকে তাদের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা সোনা আন্তর্জাতিক বাজারে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। দিল্লিকে সে পথে হাঁটতে হয়নি। ভারত মজবুত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকটা বছর।
সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ায় পাঁচটি দেশে ঘটে গিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। আফগানিস্তানকে দিয়ে শুরু। পাকিস্তান তো জন্মলগ্ম থেকে টলমল। সেই দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে একটি শব্দ খরচ করার পরিবর্তে সাদা খাতা জমা দেওয়াই ভালো। বাংলাদেশে গত বছর ঘটেছে ক্ষমতার পালাবদল। হাসিনাকে গদির মায়া ত্যাগ করে দেশ ছাড়তে হয়েছে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমে ঘটিয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রে পালাবদল। পালাবদলের সাক্ষী দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। ভয়াবহ অর্থনৈতিক পতনের জেরে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন রাজাপক্ষকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। এত অস্থিরতার পরেও কিন্তু ভারতের অর্থনীতিতে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। উলটে বিশ্বকে তারা চমকে দিয়েছে। যে দেশকে গত ১০ ১৫ বছর আগেও বলা হত উন্নয়নশীল দেশ মানে, ডেভেলপিং কান্ট্রি, সেই দেশ পুরোনা তকমা ঝেড়ে ফেলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যতিক্রম ভারত। বলা হচ্ছে, ভারতের ফরেস্ক রিজার্ভ এতটাই শক্তিশালী যে ১১ মাস আমদানি চালিয়ে যেতে পারে বিনা রফতানিতেই। চলতি অর্থবর্ষে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপির হার ৩.৯৭ শতাংশ। তদারকি সরকারের আমলে মাথাপিছু আয় ২.৮২০ কোটি ডলার।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চড়া হারে শুল্ক হার যে কোনও দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি এতটাই মজবুত যে ট্রাম্পের শুল্ক হার ভারতের অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। উলটে আমেরিকা চাপে পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমের মিডিয়া ভারতের অর্থনীতির একটা নতুন নাম দিয়েছেন – পিকিউলিয়ার স্টেবিলিটি। তাদের মতে, এটা সম্ভব হয়েছে ভারতের সুষ্পষ্ট অর্থনীতির জন্যই। ভারত গোটা বিশ্বের জন্য একটা ইকোনমিক রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ প্রতিটি দেশ একটা প্রশ্নে রীতিমতো ঠকঠক করে কাঁপছে – কী করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ভারতের ক্রম ক্ষমতা যেখানে বেড়েছে, পৃথিবীর প্রথম সারির দেশগুলির ক্রয় ক্ষমতা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। অস্বীকার করার জো নেই যে নমোর বিদেশনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সব কা সাথ সব কা বিকাশ মন্ত্রের সার্থক বাস্তবায়ন।












Discussion about this post