পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত অপারেশন সিঁদুর নামে এক সামরিক অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে। তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তিন সেনার প্রধান বলেছিলেন যে এবার থেকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি পাল্টে গিয়েছে। এবার থেকে ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া যে কোনও সন্ত্রাসী হামলা ভারত যুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখবে। গত সোমবার দিল্লির লালকেল্লার কাছে যে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল তাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এই ঘটনার তদন্ত চলছে। আর এই তদন্তের প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, ভারতে একটা ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ৬ অক্টোবর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন বা ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ভারতে ৩২টি জায়গায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। আর সেই কারণেই বিপুল মাত্রায় বিস্ফোরক জমা করেছিল চিকিৎসকদের এই জঙ্গি মডিউল। বুধবার সন্ধ্যায় ভূটান থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার সুরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। তাতেই দিল্লির এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলেই ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একইসাথে দিল্লির ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে মেনে নিয়েছেন। ফলে ভারতের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রয়োগ করা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকের পর বা ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি এখনও দিল্লি বিস্ফোরণের পিছনে কোন দেশ জড়িত তা খোলসা করা হয়নি। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই কাঁটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে কে বা কারা তা নিয়ে। বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সি এবং তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, নতুন যে জঙ্গি মডিউল এই ঘটনার পিছনে কাজ করছিল তা পাকিস্তানের জৈইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত। এটাকে ‘হোয়াইট কলার’ মডিউল বলা হচ্ছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে এই চিকিৎসকরা যুক্ত ছিলেন। এখনও পর্যন্ত সাতজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দারা বুধবার থেকে বাংলা ও গুজরাট-সহ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয়, হরিয়ানা এবং গুজরাটের ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এনআইএ আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে চার বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ সজীবমিয়াঁ, মুন্না খালিদ আনসারি ওরফে মুন্না খান, আজ়ারুল ইসলাম ওরফে জাহাঙ্গির ওরফে আকাশ খান এবং আব্দুল লতিফ ওরফে মোমিনুল আনসারির খোঁজ চালাচ্ছে এনআইএ গোয়েন্দারা। ২০২৩ সালের জুনে ইউএপিএ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং বিদেশি নাগরিক আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ এরা প্রত্যেকেই অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল এবং আল-কায়েদার হয়ে কাজ করছিল।
অপরদিকে নতুন গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, বিশ্ব সন্ত্রাসী হাফিজ সাঈদের নেতৃত্বে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসীরা ভারতে হামলার জন্য নতুন ফ্রন্ট খোলার চেষ্টায় রয়েছে। যার নতুন লঞ্চপ্যাড হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে লস্কর-এ-তৈবা। ৩০শে অক্টোবর পাকিস্তানের খাইরপুর তামেওয়ালিতে আয়োজিত একটি সমাবেশের ভিডিও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। যেখানে লস্কর-ই-তৈয়বার সিনিয়র কমান্ডার সাইফুল্লাহ সাইফ একটি বিপজ্জনক বক্তব্য রেখেছিল। ওই ভিডিওতে সাইফুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলতে শোনা গিযেছে,”হাফিজ সাইদ অলস বসে নেই, তিনি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন”। তিনি আরও দাবি করেন যে, লস্কর-ই-তৈবার সদস্যরা ইতিমধ্যেই “পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ বাংলাদেশ সক্রিয় এবং “অপারেশন সিন্দুরের জন্য ভারতকে জবাব দিতে” প্রস্তুত। এমনকি ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বলেও দাবি করেন ওই লস্কর নেতা।
এরপরই ভারতে এত বড়সড় হামলার ছক প্রকাশ্যে এল। ভারতীয় গোয়েন্দারা দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করেন। অনেক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু একজন লালকেল্লার কাছে নিজের গাড়িতে রাখা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে, বা ওই বিস্ফোরক কোনও ভাবে ফেটে যায়। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই বিপুল বিস্ফোরকের ডিটোনেটর ও কিছু রাসায়নিক বাংলাদেশ থেকেই ভারতে এসেছিল চোরাপথে। ফলে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাংলাদেশ যোগ আরও প্রবল হচ্ছে দিল্লি বিস্ফোরণের পিছনে। ফলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এবার বাংলাদেশে হামলার অজুহাত পেয়ে গেল ভারত।












Discussion about this post