দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত করছে এনআইএ। সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট জমা করেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে যেমন লস্কর-ই-তৈয়বার হাত রয়েছে ঠিক একইভাবে ডেটোনেটর এসেছে বাংলাদেশ থেকে। তুরস্ক, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও মুহূর্তে ভারত কোনও অ্যাকশন নিলে কি করবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? শোনা যাচ্ছে, সেফ এজিটের জন্য পথ খুঁজছেন মুহাম্মদ ইউনূস। শোনা যাচ্ছে, কয়েকজন উপদেষ্টারও পথ খুঁজছেন। এরমধ্যে তিনটি চিকেন নেকের কাছে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে ভারতীয় সেনা। কেউ কেউ বলছেন, তবে কি চূড়ান্ত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ভারত? গদি হারাতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনী মূলো ঝুলিয়ে দিলেন সাধারণ মানুষের সামনে। তিনি বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে বললেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একইদিনে হবে। অনেকে বলছেন, অনেকটা ভয় থেকে তড়িঘড়ি নির্বাচনের বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি। তার কারণ আওয়ামী লীগ যে লকডাউন কর্মসূচি করল, তাতে সফল হতে দেখে সরকারের ঘুম উড়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা যে আন্তর্জাতিক মানের গমমাধ্যমে বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তাতেও অসুবিধা হচ্ছে ইউনূস সরকারের। তাই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারেক জানিয়ে দেওয়া হয় হাসিনার একের পর এক সাক্ষাৎকারে তারা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। হাসিনাকে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকা একজন কুখ্যাত পলাতক’। ডেপুটি হাইকমিশনারকে বলা হয়, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি এক কুখ্যাত পলাতক আসামী আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশ-বিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে উস্কানি দেওয়ার জন্য মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া এই পদক্ষেপ উভয় দেশের মধ্যে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। ’ ডেপুটি হাইকমিশনার এও বলা হয়েছে, তিনি যেন অবিলম্বে হাসিনাকে নিয়ে ঢাকার উদ্বেগের কথা দিল্লিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এর প্রথম নয়, এর আগেও বিমস্টেক শীর্ষ সন্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন এ ব্যাপারে। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে নাকোচ করে দিয়েছিলেন। এরমধ্যে দিল্লিতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে গিয়েছে তাতে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, তাতে শীরেসংক্রান্তি মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের। ভারতের একটি গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দিল্লির বিস্ফোরণে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে দুজন বাংলাদেশি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পরে পরে জম্মু-কাশ্মীর থেকে পুলিশ দুজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে। তারা যে সরাসরি জড়িত, সেটা এখনও সরকারিভাবে বলা হয়নি। তবে জেরা চলছে। যদি কোনওভাবে বাংলাদেশী যোগ স্পষ্ট হয়, তবে কড়া পদক্ষেপ যে সাউথব্লক করবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে চিকেন নেকের কাছাকাছি ভারতীয় সেনা তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। ফলে ভারত যে শক্তি বৃদ্ধি করছে সেটাও পরিস্কার। তাতে বাংলাদেশ যে ভয় পেয়েছে, সেটাও তাদের বিভিন্ন নেতৃত্বের কথা শুনে পরিস্কার। এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশের অন্তকবর্তীকালীন সরকারের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।












Discussion about this post