১৩ই নভেম্বর বাংলাদেশে একটি ঘটনাবহুল দিন। একদিকে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি হল। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন। নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি। বাংলাদেশে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হবে। যেটা ঘোষণা করলেন প্রধান উপদেষ্টা। যেটা মূলত বিএনপির চাওয়া ছিল। বিএনপি একইসঙ্গে এটাও বলেছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে তিনি যে অঙ্গীকার করেছিলেন, সেটা প্রধান উপদেষ্টা লঙ্ঘন করেছেন। উপদেষ্টা পরিষদ ও সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকবে। যেটা একেবারেই নতুন বিষয়। অন্যদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী সোমবার অর্থাৎ ১৭ তারিখ। ফলে সবমিলিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নিচ্ছে সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে বাংলাদেশের অন্দর ছাড়িয়ে বহিঃবিশ্বে।
যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, তখন অন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিক। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, জটিলতা আরও বাড়তে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছলে তাদের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর সেটাই হল। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের উপর নয়, জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল। জামায়েতি ইসলামি বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। কিন্তু সমস্ত কিছু উড়িয়ে দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই এদিন তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হলে সংস্কারের লক্ষ্যে কোনওভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর এবং সাশ্রয়ী হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে চারটি প্রশ্নের উপর, সেগুলি পড়ে শোনান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রশ্নটি হল…..অপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলির প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
এরপর চারটি প্রশ্ন থাকবে।
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল গুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার সহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩০ টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দল গুলো বাধ্য থাকবে।।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই চারটি বিষয়ে হ্যাঁ থবা না-এর মধ্যে উত্তর দিয়ে নিজেদের মতামত দেবেন।
এখন দেখার, এরপর রাজনৈতিক দলগুলি এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কি থাকে। এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।












Discussion about this post