২০২৪ সে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। কারণ ছাত্র বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বর্তমানে তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সেই ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরেই ক্ষমতায় এসেছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। দেশবাসী ভেবেছিল এবার বোধহয় তাদের সুরাহা হবে। কালের গতিতে ইউনূস রাজত্বের দেড় বছরে পদ্মার নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। যেই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালে মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের আসনে বসেছিলেন, এবার সেই প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা। ফেটে পড়েছে তাদের বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ক্ষণে ক্ষণে। তবে এবার তাদের আন্দোলন ক্ষমতা বা রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে নয়-তাদের ক্ষোভের কারণ সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ নিয়ে সরকারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্ততেই ইউনূসের বিবেকহীন কুঞ্চিকর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যা কোনমতেই বাংলাদেশের ছাত্ররা মেনে নিতে পারছে না।ছাত্রসমাজ মনে করছে, ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ‘সংস্কারের’ নামে একাধিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। যা কোনমতেই ছাত্ররা মেনে নিতে পারছে না এবং তাদের মত ইউনূসের সিদ্ধান্তে কোনরকম ভাবেই তাদের সাথে আলোচনা করা হয়নি। এবং যা ঘটতে চলেছে তা সম্পূর্ণ ইউনূসের নিজের সিদ্ধান্তে ঘটছে।এই সন্দেহের সূত্রপাত হয় যখন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া হয়। শিক্ষা দফতর প্রশাসনিক অসুবিধা ও বাজেটের সীমাবদ্ধতাকে কারণ হিসেবে দেখালেও, আন্দোলনরত পড়ুয়ারা তা মানতে নারাজ। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের স্পষ্ট দাবি, ইউনূসের সরকার এই বিষয়গুলোকে ‘ইসলামবিরুদ্ধ’ মনে করে স্কুল থেকে পুরোপুরি তুলে দিতে চাইছে। এবং তাদের আরো কথা বাংলাদেশ শুধুমাত্র ইসলাম পন্থী বেশ নয় এখানে হিন্দুদেরও বাস রয়েছে সমানভাবে ইউনূস তা জোরপূর্ব ইসলামপন্থী রাষ্ট্র বানাতে চাইছে।এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের পীঠস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় সঙ্গীত ও গান গেয়ে বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-ছাত্রীরা।বিক্ষোভে ইউনূস-বিরোধী একাধিক ব্যানার চোখে পড়ে, যার মধ্যে একটি ছিল বিশেষ নজরকাড়া।যে ব্যানারে ছিল ‘আপনি স্কুল থেকে সঙ্গীত নিষিদ্ধ করতে পারেন, কিন্তু আপনি এটি বাংলাদেশীদের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না।’শুধু তাই নয় এই বিক্ষোভেরা ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলিতেও এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। যত দিন যাচ্ছে, আন্দোলন ততই তীব্র হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যশালার অধ্যাপক ইসরাফিল শাহিন বলেন, ‘সংস্কৃতি কখনই ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। এই সংস্কৃতিই আমাদের জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলে। এটা ছাড়া শিক্ষা শূন্য হয়ে যায়।’এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সমাবেশে গায়ক ও কর্মী শায়ান স্পষ্ট অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করার কারণ বাজেট নয়, সবটাই সরকারের চক্রান্ত। তিনি বলেন, “ধর্ম ও সংস্কৃতিকে একত্রে মিলিয়ে দেওয়ার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। আমাদের এর ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়।”বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমালোচকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকেই পরিষ্কার যে সরকার কতটা মৌলবাদীদের পক্ষে ঝুঁকছে। যা দেশের পক্ষে অত্যন্ত বিপদজনক বলে মনে করছেন তারা।যদিও সরকার এখনও পর্যন্ত এই প্রতিবাদ নিয়ে কোনও বিবৃতি জারি করেনি বা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যে ছাত্র-ছাত্রীরা ইউনূসকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারাই যখন বিপক্ষে চলে যায়, তখন বাংলাদেশে ফের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আসাম্ভব কিছু নয়। এখান থেকে স্পষ্ট বাংলাদেশে আবারো এক পালাবদল ঘটতে চলেছে।এই ছাত্র বিক্ষোভ তাই কেবল সাংস্কৃতিক নয়, আগামী দিনে তা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জল্পনাকেও উসকে দিচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post