বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানী জঙ্গিরা ভারতে হামলার ছক কষছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন পাকিস্তানের লস্কর – ই – তৈবার জঙ্গি নেতা। লস্কর – ই – তৈবার নেতা হাফিজ শাহিদ বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তান উল্লেখ করে বলেছিলেন, ভারতে হামলা চালানোর জন্য বাংলাদেশে তারা প্রস্তুত আছে। জঙ্গি নেতার বলা এই কথার পরেই কড়া হাতে জঙ্গি মোকাবিলা করতে ভারত ইতিমধ্যেই তৎপর। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভারত জঙ্গি নির্মূলের অজুহাতে বাংলাদেশে সার্জিকাল স্ট্রাইক বা আচমকা হামলার অজুহাত পেয়ে গেল ? বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশে সার্বভৌমত্তের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার ক্ষেত্র তৈরী করেছে।
ভারতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের লস্কর – ই – তৈবা বাংলাদেশের স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি তৈরী করার ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার জন্য উদ্বুদ্দ করছে। ভারতের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশকে কিউবা বা ইউক্রেনের সাথে তুলনা করেছেন। ইউক্রেন নিজের নিরাপত্তার অজুহাতে রাশিয়ার সামরিক আক্রমণের শিকার হয়েছিল। তেমনি বাংলাদেশ যদি ভারতের নিরাপত্তা সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করে তবে একই পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে তাদের।
ভারত, ইরান ও পাকিস্তান এই তিনটি আঞ্চলিক শক্তি দেখিয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা সামরিক শক্তি ব্যবহারে কোনও আন্তর্জাতিক আইন বা প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্তের পরোয়া করবে না। গত মে মাসে কাশ্মীরের পাহেলগাঁও কাণ্ডে অপারেশন সিঁদুরে ভারত পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে জঙ্গি নাশ করেছিল। এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে ভারত পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অন্য কোনও ভূখন্ডের সীমানাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত নয় ভারত।
ভারতের উত্তর পূর্ব হিমাঞ্চলীয় গোষ্ঠী গুলি যেমন, ULFAI, NSCN ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জন্য অতীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমিত সামরিক স্ট্রাইক চালিয়েছে। এই পদক্ষেপ গুলি থেকে বোঝা যায়, ভারতের নিরাপত্তা কৌশল শুধু পাকিস্তানের জন্যই না, তার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তেও একই ধরণের সামরিক নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক মধুর নয়। বাংলাদেশ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চীনের সাথে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করেছে। পাকিস্তানের সামরিক উচ্চপর্যায়ের কর্তারা নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করছেন ও বাংলাদেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন ভারতের জন্য বড় কৌশলগত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে তারা মনে করছেন। কিন্তু ভারত তাদের এই ঘনিষ্টতাকে ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত জোট হিসেবে দেখতে পারে।












Discussion about this post