গণশক্তির কাছে সব শক্তি মাথা নোয়াতে বাধ্য থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইতিহাস সে কথাই বলছে। একটা সময় আসে যখন দেশের মানুষ বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়াতে কুণ্ঠা বোধ করে না। বেশি দূর যাওয়ার দরকার নেই। এই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেছে এমন কিছু ঘটনা যা প্রমাণ করছে দেশবাসী একজোট হলে সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। মাহিন্দা রাজাপক্ষের কথাই ধরা যাক। রাজপ্রাসাদ থেকে পালিয়ে তাকে সে দেশের সেনা বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে নেপালের কথা বলা যেতে পারে। সেখানেও তো একটি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।
এই ভারতেও বহুবার বহু সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নামে। এই প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধির নাম উল্লেখ করতে হয়। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের চাপের কাছে তাঁর মতো একজন বুদ্ধমতি, বিচক্ষণ নেত্রীকেও কার্যত নতজানু হতে হয়েছিল। মুম্বই হামলার কথাই বা বাদ দিই কী করে। দেশবাসী গর্জে উঠেছিল। দাবি ছিল ইনসাফের। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে আজমল কাসাভের পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি ছিল না। বাধ্য হয়ে আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। দিল্লির নির্ভয়ার কথা মনে আছে নিশ্চই। দলমত নির্বিশেষে সবাই চেয়েছিল ধর্ষকের ফাঁসি। বাংলায় ৩৪ বছরের বাম রাজত্বের অবসান ঘটিয়েছিল সাধারণ মানুষ। যদিও এই সব আন্দোলন নিয়ে নানা যুক্তি, নানা তর্ক, নানা আলোচনা হয়েছে। আগামীদিনেও হবে।
কিন্তু যা নিয়ে কোনও তর্ক বা আলোচনার হয়তো অবকাশ থাকবে না যে জনতা দেখিয়ে দিয়েছে, বুঝিয়ে দিয়েছে তারাই শেষকথা। জনতার সমবেত শক্তির বিরুদ্ধে সাময়িক সময়ের জন্য হয়তো প্রশাসন বা প্রশাসনের বিভিন্ন যন্ত্র জয়ী হতে পারে। কিন্তু সেই জয় ক্ষণস্থায়ী, চিরস্থায়ী নয়। লকডাউনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তদারকি সরকারকে সেই বার্তাই দিল। তাদের বার্তা– ইউনূস সরকার, আর নেই দরকার।
ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনা তাঁর দেশের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক তোপ দেগেছেন। কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কখনও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। প্রতিটি সাক্ষাৎকার ছিল একেকটি বোমা বিস্ফোরণ। যার তেজে পদ্মাপারের যমুনাভবনের ভিত কেঁপে ওঠে। তাঁর ভারত-বিরোধী মন্তব্য তাতিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশবাসীকে। বৃহস্পতিবার যে সব জায়গা থেকে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, হিংসাত্মক ঘটনার খবর এসেছে সেই সব কর্মসূচি হল গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসীর বুকের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের উদগীরণ। বলা যেতে পারে জমে থাকা ক্ষোভের তপ্ত লাভাস্রোত। সেই তপ্ত লাভার স্রোতে জ্বলেছে ইউনূস সরকার, তাঁর উপদেষ্টারা। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের এই আন্দোলন কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। অপশাসনের ইতি না টানা পর্যন্ত তারা থামতে রাজি নয়। দেশের মানুষ তাদের পাশে রয়েছে। রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের একটা বিরাট অংশ।
আর এই অভূতপূর্ব জনসমর্থনের কাছে কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ইউনূস। জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া তাঁর ভাষণে রেখায় রেখায় তা ফুটে উঠেছে। সেখানে তিনি তাঁর সরকারের সাফল্য নিয়ে যে সব দাবি করেছেন, সেগুলি যে ভূয়ো তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পরিসংখ্যানের সঙ্গে সেই ভাষণের কোনও মিল নেই। অতএব ইউনূসের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post