আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি দিল একটাই বার্তা – জনতা জনার্দন। বার্তা দিল – বাংলাদেশ সত্য এবং ন্যায়ের পথে চলতে ভালোবাসে। ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দল দেখিয়ে দিল শুধুমাত্র অনলাইনে, মানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেও একটি কর্মসূচি সফল করে তোলা যায়।
জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ছবি তৈরি করা হয়েছিল। বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলে আওয়ামী লীগ শেষ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের আর ফেরার কোনও রাস্তা নেই। অথচ এই দেড় বছরে হাসিনার দলের কর্মী সমর্থকেরা নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে। আর তাদের অক্সিজেন জুগিয়েছেন দিল্লির আশ্রয়ে থাকা হাসিনা। অক্সিজেন জুগিয়েছেন, ভোকাল টনিক দিয়ে তাদের মনবল চাঙ্গা করার কাজ চালিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন দেশে থাকা তাদের শীর্ষ নেতারা। অথচ তদারকি সরকার প্রধান এই লকডাউন কর্মসূচিকে ব্যর্থ করতে কত না পদক্ষেপ করেছিল। শুধু কি তিনি? তাঁর উপদেষ্টারাও কম চেষ্টা চালাননি। সরকারের তরফ থেকে রীতিমতো বয়ান দেওয়া হয়েছিল যে ১৩ নভেম্বর জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। আওয়ামী বিরোধী যে সব সংগঠন বাংলাদেশে রয়েছে তারাও সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সব প্রচেষ্টা বানচাল করে দিল আওয়ামী লীগের লকডাউন।
দলের তরফ থেকে বলা হয়েছিল লকডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায়। আর কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল গোটা বাংলাদেশ স্তব্ধ। অনেকে বলছেন এটাকে লকডাউন না বলে শাটডাউন বলা ভালো। যে তারিখে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় সেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ঘোষণা করার কথা ছিল কবে তারা হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করবে। আওয়ামী লীগ জেনে শুনেই ১৩ নভেম্বর তারিখটি বেছে নিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশবাসীর আবেগকে কাজে লাগানো।
আওয়ামী লীগ উপলব্ধি করেছে যে তদারকি সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। যে সেনার সঙ্গে একসময় ইউনূসের সম্পর্ক ছিল একেবারে গলায় গলায়, সেই সেনাবাহিনী তাঁর পাশে নেই। সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাতের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সেনাকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে, সরকার পড়েছে ফ্যাসাদে। পুলিশের একাংশকে চটিয়েছে, সেনাকে চটিয়েছে। আর দেশের মানুষ তো অনেকদিন ধরেই এই সরকারের ওপর চটে রয়েছে। ফলে, তারা চাইবে এই সরকারের পতন। আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি সেই পতনকে আরও নিশ্চিত করে দিল।
রাজধানী ঢাকা ছিল অচল। দূরপাল্লার বাস চলেনি। রাজধানীর বাইরে থেকে দূরপাল্লার বাস আসেনি। পরিবহন মালিক সমিতি জানিয়েছিল, ১৩ তারিখ সব যানবাহন চলবে। দোকান মালিক সমিতির তরফ থেকে বলা হয়েছিল, ঢাকায় সব দোকান-বাজার খোলা থাকবে। খোলা থাকবে হাটবাজার। সব বন্ধ। কাউকে বন্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের থেকে জোরজবরদস্তি করা হয়নি। উলটে সরকারের তরফ থেকে মানসিকভাবে তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হয়। যাবতীয় চাপ উপেক্ষা করে তারা হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে। জননেত্রীর দলের নেওয়া কর্মসূচিকে তারা প্রকারান্তরে সমর্থন জানিয়েছে। সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষজন। আর আওয়ামী লীগ তদারকি সরকারকে এই বার্তা দিয়েছে – ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে, মোদের ততই বাঁধন টুটবে “












Discussion about this post