‘নিষিদ্ধ’ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ আগাম জানিয়ে দেয় বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর তারা পালন করবে লকডাউন কর্মসূচি। তাদের এই কর্মসূচি বানচাল করতে যমুনাভবনে বসে নীল নকশা তৈরি করেছিলেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। শুধু তিনি কেন, তাঁর সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তো গুন্ডাবাহিনী তৈরি করেছিলেন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। পরিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাক। বৃহস্পতিবার তাদের মাঠে নামানো হয়। আওয়ামী লীগ টের পেয়ে যায় যে জামায়াত এবং তাদের মিত্ররা ঠিক করেছে দেশের নানা প্রান্তে নাশকতা চালাবে। দোষ হবে তাদের। সব ছক বানচাল হয়ে গেল। আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি সমর্থন পেল আম আদমির। এই কর্মসূচি সরকার ব্যর্থ করতে উঠে-পড়ে লেগেছিল কেন?
সরকারের এটা বুঝতে বিন্দুমাত্র দেরি হয়নি যে আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি সফল হওয়ার অর্থ সরকার, প্রশাসন, পুলিশের ব্যর্থতা। সেনাবাহিনী অনেক আগেই ইউনূসের মাথার ওপর থেকে তাদের ছাতা সরিয়ে নিয়েছে। ফলে, রোদ-জল-ঝড়ে বৃদ্ধের ভরসা ছিল পুলিশ ও প্রশাসন। আর বিভিন্ন সরকারির প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাদের কিছু দালাল। যারা চেষ্টাই করবে ওই লকডাউন কর্মসূচিকে বানচাল করার। বুধবার রাত থেকেই বিরোধী শিবির মাঠে নেমে পড়ে। বুধবার রাত থেকে মৌলভী বাজারের বাসস্ট্যান্ড, শাহ মোস্তাফা সড়ক, চৌমুহনা, কোর্ট রোড, কুসুমবাগ এলাকায় দাপিয়ে বেরিয়েছে ইসলামি ছাত্র শিবির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীদের বাইক বাহিনী। তারা রীতিমতো ‘লীগ ধর, জেল ভর’ স্লোগান দিয়েছে। সেখানকার দোকান মালিকদের দোকান খোলা রাখার জন্য রীতিমতো শাঁসিয়েছে। তারা ছাড়াও এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্র শক্তির নেতাকর্মীরা রাত জেগে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দেন। ডাক দেওয়া হয়েছিল ঢাকা লকডাউন। বাস্তবে দেখা গেল বাংলাদেশ লকডাউন। করোনার সময় লকডাউন জারি করা হয়েছিল। সেই সময় মানুষ ঘরের বাইরে যাওয়ার জন্য একটু ফাঁকফোকর খুঁজেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তার চিহ্নটুকু পর্যন্ত দেখা যায়নি।
একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, লকডাউনের দিন নানা প্রান্ত থেকে হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনওভাবেই জড়িত ছিল না। নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দল। এই খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। লকডাউন কর্মসূচি সফল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পুলিশ বা প্রশাসনে হাসিনাপন্থীদের নিষ্ক্রিয় থাকা। আওয়ামী লীগ গত ১০ নভেম্বর থেকেই কিন্তু মাঠে নামে। নানা প্রান্তে আয়োজন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির। সেই সব কর্মসূচির সফল হওয়ায় তারা রীতিমতো উজ্জীবীত। সেটা তাদের অক্সিজেন জুগিয়েছে। সঙ্গে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনার ভোকাল টনিক তো রয়েছে। ফলে, সব মিলিয়ে ইউনূসের বিদায় আসন্ন। দেশবাসীর বুঝতে আর বাকি নেই যে গত জুলা-অগাস্ট আন্দোলনে তাঁরা যাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, যে আশা নিয়ে তাঁকে বসানো হয়েছিল, তাদের সেই আশা পূরণে সরকার চরম ব্যর্থ। বাংলাদেশের সাড়ে সর্বনাশ করে দিয়েছেন। অতএব ইউনূস হঠাও, হাসিনা লাও।
আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরাও একটি সুষ্ঠ নির্বাচন দেখার অপেক্ষায়। মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণ এবং গণতন্ত্রের পথকে মসৃণ যাত্রার জন্য নির্বাচন প্রধান মাধ্যম।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post