বাংলাদেশের তদারকি সরকার এবং তাঁর প্রধান ড. ইউনূসের ওপর এমনিতেই চটে লাল ভারত। লালকেল্লা-কাণ্ড সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। সাউথব্লক এবার ঠিক করেছে পাকিস্তানের পাশাপাশি এবার বাংলাদেশকে চরম শিক্ষা দেওয়ার। সেনাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে। তার একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল কিছুদিন আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের গলায়। এ দেশের একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমের এডিটর-ইন-চিফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। এটা এই দেশের বিদেশনীতির অন্যতম অঙ্গ। কিন্তু ভারতকে যদি কোনওভাবে অশান্ত করার চেষ্টা চলে, ভারত তাঁর সমুচিত জবাব দেবে। কাদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা, তা আর নতুন করে উল্লেখ করার দরকার পড়ে না। গত মঙ্গলবার বিহারে একটি জনসভা থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ওপারেশন সিঁদুর স্থগিত করা হয়নি। সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি টানা হয়েছে। পরিস্থিতি তেমন হলে এবার অপারেশন সিঁদুর ২.০ হবে।
তাঁর এই বক্তব্যে পাকিস্তান তো বটেই বাংলাদেশ কাঁপতে শুরু করেছে। অপারেশন সিঁদুর কী বা এই সামরিক অভিযানের ঝাঁঝ কতটা, পাকিস্তান সেটা হাতে কলমে টের পেয়েছে। রাজনাথ সিং কোনও ভারতের একটি হিন্দি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পাক সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘর মে ঘুসকে মারেঙ্গে। ’ আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় সেনা প্রথম সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে বেধড়ক মারধোর দিয়ে এসেছে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন তা বিশ্ব জেনে গিয়েছে। পাকিস্তান খোলাখুলি বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার একটা নমুনা আমরা দেখলাম দিল্লিতে। সেই হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। সাউথব্লক এবং সেনাসদর আর চুপচাপ বসে থাকতে নারাজ। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, সাউথব্লক মনে করছে, এরপরে চুপচাপ বসে থাকলে ঢাকা আর ইসলামাবাদ একসঙ্গে মিলে ভারতের বুকে আরও বড়ো ধরনের নাশকতা চালাবে। তাই, সময় থাকতে থাকতে এবার আরও কড়া ডোজ দিতে হবে। সেই ডোজ ইঙ্গিত দিচ্ছে অপারেশন সিঁদুর ২.০।
খুব বেশদিনের কথা নয়। নভেম্বর মাসের একেবারে গোড়ার দিকে সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে রাখেন। পাকিস্তান যদি কোনও কাপুরোষিত কাজ (পড়ুন জঙ্গি হামলা) করার চেষ্টা করে, তবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন সিঁদুর ২.০ –য়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পাকিস্তানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে কিন্তু একবারের জন্য বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেনি। ওই ভাষণের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের শুরু হয়েছে ‘হাগলোম্যাসি’। আর তাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদ্দেশ্য একটাই যেভাবে হোক ভারতের বিরুদ্ধে কোনও কিছু একটা করতে হবে। দিল্লির বিস্ফোরণে বাংলাদেশের নাম যে জড়িয়ে গিয়েছে, সেটা আশা করা যায় যমুনাভবনের বাসিন্দার কানে পৌঁছে গিয়েছে। পৌঁছে গিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর হুমকি-বার্তা।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুটান থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। সেখানে দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, সাউথব্লক এবং সেনাভবনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটাও মোদি ওই বৈঠকে জানিয়ে দেন। তাহলে কী খুব দ্রুত আমরা অপারেশন সিঁদুর ২ দেখতে চলেছি?।












Discussion about this post