এই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে নিয়ে সরগরম বাংলাদেশ। গত বছর জুলাই অভ্যু ত্থানে ক্ষমতাচ্যু ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা। সোমবার সেরকমই একটি মামলায় রায় ঘোষণা করছে আদালত। যা ঘিরে রীতিমতো উত্তাল পরিস্থিতি গোটা বাংলাদেশে। জায়গায় জায়গায় সংঘর্ষ, ককটেল বোমা বিস্ফোরণ, বাস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নিসংযোগ এবং আওয়ামী লীগের মিছিলে মিছিলে সরগরম বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে যে কোনও সময় ঘোষণা হতে পারে রায়। তার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ঢাকায়। উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যু।ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এই মামলা। যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তিনজনের প্যাওনেল বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। সোমবার তাঁরাই রায়দান করবেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে মারাত্মক আহত করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। যদিও সাবেক আইজিপি এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে গিয়েছেন, আর বাকি দুজন এখন ভারতের আশ্রয়ে। ফলে রায়ে যদি হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলেও তা কার্যকর করা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যতম প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন জানিয়েছেন, হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হলেই তাঁরা ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিশ জারির আবেদন করা হবে। এবার কনভিকশন ওয়ারেন্টের আওতায় আবেদন করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আর্জি জানিয়েছিল, কিন্তু তার কোনও জবাব পর্যন্ত দেয়নি আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চাপা গুঞ্জন আছে। এবারও যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইন্টারপোল তার সম্ভাবনাও কম। কারণ আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই ঢাকার ট্রাইবুনালে এই বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতি সংঘে এবং অস্ট্রিযায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। যা অবশ্যই মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনকে চাপে রাখবে।
এই অবহে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এটাও মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তরবর্তী সরকারকে চাপে ফেলছে। তাঁরা ইতিমধ্যেই ঢাকায় অবস্থিত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে শেখ হাসিনার মুখ বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছে। এটা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। কারণ ভারত সেই আর্জিতে কান দেয়নি, শেখ হাসিনা এখনও বহাল তবিযতে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন। এমনকি তাঁর ছেলে জয় সম্প্রতি বলেছেন, ‘‘রায় কী হতে চলেছে, আমরা সকলেই তো জানি। সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে। মাকে দোষী সাব্যস্ত করবে ওরা। হয়তো মৃত্যুদণ্ডই দেবে। কিন্তু ওরা আমার মায়ের সঙ্গে কী করতে পারে? মা ভারতে নিরাপদে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে’’। অর্থাৎ, হাসিনার পূত্র এই রায় নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। এদিকে বাংলাদেশে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে। অগ্নিগর্ভ ঢাকায় প্রতিবাদের আগুন থামাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মুহাম্মদ সাজ্জাত আলী। প্রশ্ন উঠছে, হাসিনার পতন যে কারণে, সেই ভুলই ফের একবার করতে যাচ্ছে না তো ইউনূস সরকার? তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকারের নীতিই হল, হাসিনার যত দোষ, ইউনূসের জমানাতে সাত খুন মাফ।












Discussion about this post