প্রধানমন্ত্রী মোদি, তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কূটচালে একেবারে ধরাশায়ী তদারকি সরকার। সাউথব্লক যে এভাবে ঘুঁটি সাজাতে পারে, একবারের জন্য না আন্দাজ করতে পেরেছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস না তার সরকারের কেউ। চালটা আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে এ আর এমনকী। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে ইউনূস সহ গোটা সরকারের। চালটা হল শেখ হাসিনাকে শুধু বলতে দাও।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল দিল্লিতে হাসিনা আশ্রয় নিয়েছিলেন গত বছর। তখন কিন্তু তাঁকে খুব একটা মুখ খুলতে দেখা যায়নি। সাউথব্লকও একরকম চুপচাপ ছিল। সাউথব্লক অপেক্ষা করছিল মোক্ষম সময়ের। আর সেই সময়টা শুরু হল অক্টোবরে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গত ৩০ অক্টোবর তিনি প্রথম মুখ খোলেন। জানিয়ে দেন তাঁর আওয়ামী লীগের ওপর থেকে যতদিন না নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ততদিন তিনি দেশে ফিরবেন না।
তারপর থেকে একের পর এক দিল্লি থেকে বোমা ফাটিয়ে চলেছেন হাসিনা। আর সেই বোমায় থরথর করে কেঁপে উঠেছেন যমুনাভবনের বাসিন্দা থেকে শুরু করে তার অবৈধ সরকারের কত্তারা। এমনকী ১৭ নভেম্বর সোমবার যেদিন সে দেশের ক্যাঙারু কোর্ট তাঁর এবং তাঁর সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে, সেদিনও হাসিনার মুখ খুলেছেন। দিয়েছেন অডিও বার্তা। জানিয়ে দেন, তিনি এই রায়ের পরোয়া করেন না। তাঁর বিশ্বাস রয়েছে আল্লাহর ওপর। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ জীবন নেবেন। এমনকী এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী দল হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ‘বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। আবার মানুষের হিতার্থে কাজ করব। বাংলাদেশের মাটির প্রতি আমি সুবিচার করবই। ’
মুখ খোলেন নোবেল ম্যানের বিরুদ্ধেও। বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ থেকে সরানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইউনূস সেটাই করেছেন। শাস্তি ওনার পাওয়ার কথা ছিল। হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউনূস।’ এদিনও হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুলি চালানোর অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। বলেছেন, গুলি চালানো হয়নি। চালানো হয় রবার বুলেট। তদারকি সরকারের দাবি যদি এটাই হয়ে থাকে যে গুলিতে মৃত্যু হয়েছে, তাহলে কেন দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়নি। কেন সাক্ষীদের বয়ান প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
এদিকে, মোদির কূট চালে জামায়াতের মতো দল প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে। দলের নেতা শফিকুর রহমান নিজের ফেসবুকে পেজে লিখেছেন, আলেম ওলামাদের নিয়ে দলের কোনও নেতা যেন আলটপকা মন্তব্য না করেন। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, যারা সত্যি জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন তাদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা হল কোনও বিজ্ঞ আলেম ওলামাকে নিয়ে কোনও অশোভন মন্তব্য করবে না। যদি কেউ এমনটি করেন, তাহলে ধরে নেওয়া হবে তিনি দলকে কোনওভাবেই ভালোবাসেন না।
এই সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে মোদির কূট চাল। সেই চালের আরও একটা শুকনো লঙ্কা পোড়া নমুনা দেখল তদারকি সরকার। হাসিনা জানিয়েছেন, ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাংলার প্রতিটি ঘর হয়ে উঠেছিল অধিকার হারা মানুষের দুর্গ। সেই দুর্গ ভাঙতে ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা তল্লাশির নাম করে দমনপীড়ন চালিয়েছে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post