সোমবার ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশবাসীর কাছে দিনটি ঐতিহাসিক দিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জানাবে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন। আদালত হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত বলছে, ‘‘ছাত্রদের কথা শোনার পরিবর্তে আন্দোলনকে অবহেলা করেছেন হাসিনা। আন্দোলনকারী ছাত্রদের রাজাকার বলে অপমান করেছেন।’’
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীর বলেন, ‘আমরা হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করছি। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে এই আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মামলায় যারা শহীদ হয়েছেন, যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বরাবর হস্তান্তরের প্রার্থনা জানিয়েছি।’ এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে কোনো আসামির এ ধরনের “অ্যাপ্রুভার” বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনের ঘটনা এটাই প্রথম বলে সেসময় জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই আদালতের কি কোনও বৈধতা রয়েছে? এই আদালত তো গঠন করা হয়েছিল হাসিনার আমলে। তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য এই আদালত তৈরি করা হয়। ২০২২৪-য়ের সরকার বদলের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন কর্মসূচির পালন করা হয়। গত বছর ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই দিনে জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়না। প্রথমে মামলায় হাসিনাই ছিলেন একমাত্র হাসিনা। পরে এ বছরের মার্চে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রাক্তন আইইজিপিকে আসামী করতে প্রসিকিউশনের করা আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার চিফ প্রসিকিউটরের দফতরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেখানে হাসিনার সম্পর্কে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা এবং সুপিরিয়র কম্যান্ডার ছিলেন। এর পর ১ জুন শেখ হাসিনা সহ তিন আসামীর বিরুদ্ধে আনু্ষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে নানা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর শেষ হয় শুনানি। ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর সোমবার হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করে।
ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি বলেন, ‘মানবতার বিরদ্ধে অপরাধ হয়েছে। এর জন্য দায়ী হাসিনা,আসাদুজ্জামান এবং আল মামুন। প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজসাক্ষী হয়েছেন। এখনও তিনি হেফাজতে রয়েছেন। কী কী ঘটেছে, তিনি তা সবটাই জানিয়েছেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন তাঁর অপরাধের কথা। তাঁর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি যেহেতু রাজসাক্ষী হয়েছেন, সে কথা মাথায় রেখে আমরা তার শাস্তির সিদ্ধান্ত নেব।’ বিচারপতি বলেন, হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান পলাত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারা আত্মসমর্পণ করেননি। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন ৫৪ জন। সংখ্যাটা খুব একটা কম নয়। এর আগে ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন তথ্য বিবরণ দেওয়া হয়।
এই ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জামায়াত। ইউনূস সরকার ট্রাইব্যুনাল তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেটা করে তারা রাজধানী ঢাকা তো বটেই দেশজুড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এই দেশটাকে অস্থির করতে চাইছে একদল জঙ্গি। এমনকী তারা ভারতে গিয়েও হামলা চালায়। কেল্লাকাণ্ডে তাদের যোগ পাওয়া গিয়েছে। ভারত কিন্তু সরকারিভাবে এখনও জানায়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post