বাংলাদেশের যে অরাজকতা চলছে, সেটা অস্বীকার করার নয়। এরমধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এই আবহে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিল সে দেশের আদালত। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই চরম বিশৃঙ্খলা ছবি সামনে এল। ৩২ নম্বরে অবশিষ্ট অংশ দখলদারির অভিযোগ। ফের মবের রাজত্ব। ৩২ নম্বরের অবশিষ্ট অংশকে গুড়িয়ে খেলার মাঠ করতে চায় মব বাহিনী। পুলিশ, সেনাবাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ছবি সামনে এল। এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আমেরিকার নিযুক্ত প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা। কিন্তু যারা মব চালাচ্ছে তারা কারা? আসলে কি চলছে বাংলাদেশে, চলুন আলোচনা করা যাক।
আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। মব করে বুলডোজার এনে ভাঙা হয়েছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে। একবার নয়, দুবার হামলা চালানো হয়েছিল ওই বাড়িটির উপর। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে ছাঁই হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। পড়ে রয়েছে সামান্য অংশ। কিন্তু সেটাকেও রেহাই দিতে চায় না মব বাহিনী। শুধু তাই নয়, বাকি অংশটুকুকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে খেলার মাঠ করতে চায় তারা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একদল বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে দুটি এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসে। বাড়ির সামনে যেতে গেলে পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে। আইনশিঙ্খলবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় দু জন সেনা সদস্য এবং একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরও বেশ কিছু সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বললেও তারা যেতে চায় না। তখন সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। তখনই টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। অন্যদিকে বিক্ষুদ্ধ মব বাহিনী পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক দিন আগেই সরকারের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, শুরুতে সরকার যদি লাগাম টানতো, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতো।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের মধ্যে আর একটি সরকার গঠন হয়েছে। যারা মব করছে। মবকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিচ্ছে। কিন্তু উল্টে সরকারকে তারা কালিমালিপ্ত করতে চাইছে, এখনও কি সেটা বুঝতে পারছে না অন্তবর্তীকালীন সরকার? এরমধ্যে শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা করেছে আদালত। কিন্তু উল্টোদিকে যদি হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙতে চায় মব বাহিনী, তাতে তো সরকার প্রশ্ন বিদ্ধ হবে। এমনকি হাসিনার রায়ের সাজা ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। বর্হিবিশ্বের কাছে কাঠগড়ায় উঠবে ইউনূসের সরকার। তখন কি জবাব দেবে অন্তবর্তীকালীন সরকার। বছর পার হচ্ছে, একের পর এক ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের বুকে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাছে না পদ্মাপাড়ের। যার জন্য রাস্তায় থাকতে হচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে। এখন দেখার, এরপর কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post