বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূসের মুখে চুন-কালি অনেক আগেই লেপে গিয়েছে। দিল্লির কেল্লা-কাণ্ডে গোয়েন্দাদের রিপোর্টে এবার তিনি ‘গুলিবিদ্ধ হলেন। ’ গোয়েন্দাদের তরফ থেকে এই বিস্ফোরণ নিয়ে যে রিপোর্ট মোদি সরকারের ঘরে গিয়েছে সেখানে বাংলাদেশের জড়িত থাকা নিয়ে ‘অনুমান’, ‘সম্ভবত’, ‘হতে পারে’ বলা হয়নি। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দিল্লির বিস্ফোরণে হয়েছে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে। ভারতের একটি দৈনিক এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গোয়েন্দারা এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। সে দেশের মাটি ব্যবহার করেছে ‘সন্ত্রাসী’ পাকিস্তান। রিপোর্টে যা লেখা হয়েছে, সেটা শুধু বিস্ফোরক নয়। রিপোর্ট বলছে এই বিস্ফোরণের স্পনসর ছিল তদারকি সরকার।
বিস্ফোরণের আগের দিন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কম্যান্ডার সইফুল্লা সইফের সঙ্গে তদারকি সরকারের বেশ কয়েকজন পদস্থকর্তার বৈঠক হয়েছে। সইফুল্লা বৈঠক করে তাদের বাংলাদেশের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও। কেল্লাকাণ্ডের তদন্ত নেমে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে, বিস্ফোরণের কৌশল, তীব্রতা থেকে এটা অনুমান করতে অসুবিধে হয় না যে এটা দীর্ঘ একটি পরিকল্পনার ফসল। আর চূড়ান্ত যে রিপোর্ট সরকারের কাছে তারা জমা দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের বনানিতে একটি সভা হয়। পাকিস্তান থেকে সেই সভায় ভার্চুয়াল যোগ দেয় সইফুল্লা সইফ। বৈঠকে সশরীরে হাজির ছিল নিষিদ্ধ ইসলামি সংগঠন ‘হিজব-উল-তাহির’-রের জুবেইর আহমেদ চৌধুরী, সইফের ‘ডান হাত’ তথা মার্কাজি জামিয়াত আহল—ই-হাদিস ইবতিজাম-য়ের ইলাহি জাহির। বৈঠকে ছিল ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-য়ের হাফিজ সুজাহদুল্লাহ, হাফিজ আলি ফজল এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ। হিজবুল তাহির-য়ের কোঅর্ডিনেটর মহম্মদ আজাজ। সরকারের তরফ থেকেও ভার্চুয়াল বৈঠকে ছিলেন তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নাসিমুল গনি, ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশনের চিফ এগজিকিউটিভ মীর খইরুল আলম। কেন বলা হয়েছিল যে কেল্লা কাণ্ডে ইউনূসের সরকার কেল্লাকাণ্ডের স্পনসর ছিল, সেটা এখন জলের মতো পরিষ্কার। একটি দেশের সরকারের দুই কর্তা জঙ্গিদের বৈঠকে উপস্থিত থাকবে এটা কল্পনা না এলেও ইউনূস দেখিয়ে দিলেন সব সম্ভব। ভারতকে অস্থির করে তুলতে যে পথে তিনি হাঁটবেন বলে মনে করবেন, সেই পথেই তিনি হাঁটবে।
গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের ওই গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, ভার্চুয়াল বৈঠকে সইফুল্লা তাদের জানিয়ে দেন কেল্লাকাণ্ডে বিস্ফোরণের ছক। কার কাঁধে কী দায়িত্ব থাকবে, সেটাও ওই বৈঠকে স্থির হয়ে যায়। সূত্রটি বলছে, ওই বৈঠকের পর পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা নভেম্বরের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা হয়ে ভারত ভূখণ্ডে ঢোকে। আসার পর থেকে তারা সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বেশ আলাপ জমায়। ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতার জন্য তারা সেখানকার কয়েকজনের মগজ ধোলাই করে। জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে তারা উঠেছিল ইকতিয়ার নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের বাড়িতে। ইকতিয়ারের বিরুদ্ধে ভারতের এক গোয়েন্দাকর্তাকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক। তাঁর ওই ফাঁকা বাড়ি ব্যবহার করত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। তবে কেল্লা-কাণ্ডে তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। তবুও তারা আরও গভীরে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চাইছে। গোয়েন্দাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কেল্লাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের কিছুটা এসেছিল পাকিস্তান থেকেও।
এই প্রসঙ্গে গোয়েন্দারা সইফুল্লা সইফের একটি ভাষণের উল্লেখ করেন। গত ৩০ অক্টোবর সেই পাকিস্তানের খৈইরপুর একটি জনসভায় বলেছিলেন, হাফিজ সইদ হাত গুটিয়ে বসে নেই। তাঁর ডানহাত জাহির রয়েছে বাংলাদেশে। অপারেশন সিঁদুর-য়ের যোগ্য জবাব পাবে ভারত। তার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post