বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) আদালত ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার। তবে আল-মামুনকে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন করেছে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইবুনাল। তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন। এখনও বাংলাদেশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের এই ক্যাঙারু কোর্ট কী শাস্তি দিতে চলেছে তা গোটা দুনিয়া আগেই জেনে গিয়েছিল। এই খবরের অন্তরালের যে খবর রয়েছে, তা তুলে ধরতেই এই প্রতিবেদন।
প্রথমত আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম আগে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। এনার সম্বন্ধে বাংলাদেশে একটি ব্যঙ্গ শোনা যায়। সেই ব্যঙ্গ হল উঠতে ভুল/ বসতে ভুল/, তার নাম তাইজুল। তিনি আচমকা জার্সি বদল করে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর হয়ে গেলেন। গায়ে শামলা চাপিয়ে হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তুখর সওয়াল জবাব করলেন। সেই সওয়াল জবাবের পরিণতিতে আইসিটি এই দুইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাদের যে আইনজীবীদের প্যানেল রয়েছে তার মধ্যে একজন ব্রিটিশ আইনজীবীও ছিলেন। তিনি টবি ক্যাডম্যান। এই ক্যাডম্যান আইসিটি এবং সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সরাসরি হেগ-য়ের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়ার। সরকার তাঁর ওই পরামর্শকে পাত্তা দেয়নি। সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ, হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা যে পুরোটাই সাজানো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর টবি ক্যাডম্যানের পরামর্শ নাকচ করার মধ্যে দিয়ে সাজানো মামলার তত্ত্বে সিলমোহর বসল।
এই মামলা যে সাজানো সেটা আরও কয়েকটি তথ্য থেকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জুলাই-অগাষ্ট আন্দোলনে কতজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ একরকম রিপোর্ট দিচ্ছে। তদারকি সরকার একরকম রিপোর্ট দিচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ বলছে ১৪ শো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তদারকি সরকার বলছে ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সে সময়ের পত্রপত্রিকা ঘাঁটাঘাটি করলে দেখা যায় মৃত্যু হয়েছে মেরে কেটে ১৫০ জনের। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আরও একটি খবর বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই খবর হল ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা (তখন তিনি মসনদে) গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাসিনা আগাগোড়াই জানিয়ে দেন, তিনি পুলিশকে কখনই এই নির্দেশ দেননি। আর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গুলিতে আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ৭.৬২ বোরের গুলি পুলিশের কাছে ছিল না, থাকেও না। তাছাড়া পুলিশ কেন গুলি করেছিল সেটাও দেখা দরকার। বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালায়। না হলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা যেতে না। তাছাড়া পুলিশ আইন মনে গুলি চালিয়েছে। তার তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। তাছাড়া জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনও কিন্তু একই কথা বলছে। শুধু কি পুলিশের গুলিতেই এতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে? ঝুলি থেকে আসল বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে। গুলি চালান বাংলাদেশ সেনা থেকে বরখাস্ত শুভ আফ্রিদি। তিনি নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছিলেন জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় তিনি গুলি চালান।












Discussion about this post